আপিলের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা বাড়াবে-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা
‘গ’ ইউনিটের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগের ভুল ঢাকতে নতুন নতুন ভুলের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে। সর্বশেষ গত শনিবার সিন্ডিকেটের বৈঠকে কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাইকোর্টের রায়ে ‘গ’ ইউনিটে নতুন করে পরীক্ষা না নিয়ে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং এ ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের সিন্ডিকেট সভায় ডিনস কমিটি পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ভর্তি-প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়বে এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানি বাড়বে। জরুরি প্রশ্ন হলো, কেন পুনঃপরীক্ষা কিংবা উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন পড়ল? এ জন্য ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা দায়ী নন, দায়ী হলেন প্রশ্নপ্রণেতা শিক্ষকেরা। দেশের সবচেয়ে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কীভাবে এতটা দায়িত্বহীন হন? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ডিনস কমিটি সহকর্মীদের অন্যায় ঢাকতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে বিপদে ফেলবে, তা হতে পারে না। ২৮ অক্টোবর ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পর প্রশ্নপত্রে বড় ভুল ধরা পড়ে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নতুন করে পরীক্ষা না নিয়ে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহম্মদ জাফর ইকবালের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করতে বলেন।
আমরা মনে করি, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত মোটেই সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। কেননা, এতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের হয়রানিই বাড়বে না, অনেকের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। অনেকে ইতিমধ্যে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে—এই আশায়। নতুন করে পরীক্ষা নিলে তাদের সবাই উত্তীর্ণ নাও হতে পারে। তা ছাড়া ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিলের নিষ্পত্তি না হলে ভর্তিপরীক্ষা নেওয়াও সম্ভব হবে না।
অতএব আমরা আশা করি, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে যত দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের অবসান ঘটাবে।
আমরা মনে করি, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত মোটেই সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। কেননা, এতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের হয়রানিই বাড়বে না, অনেকের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। অনেকে ইতিমধ্যে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে—এই আশায়। নতুন করে পরীক্ষা নিলে তাদের সবাই উত্তীর্ণ নাও হতে পারে। তা ছাড়া ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিলের নিষ্পত্তি না হলে ভর্তিপরীক্ষা নেওয়াও সম্ভব হবে না।
অতএব আমরা আশা করি, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে যত দ্রুত সম্ভব ফল ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের অবসান ঘটাবে।
No comments