দিলি্লতে কঠিন পরীক্ষা-মালদ্বীপের সঙ্গে মিলবে কি বাংলাদেশের সমীকরণ

পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্র আর নেপালের কাছে হার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ওঠার পথটা কঠিন করে দিয়েছে বাংলাদেশের। এখন 'যদি'র মারপ্যাঁচে ঝুলে আছে লাল-সবুজের ভাগ্য। যে সমীকরণগুলো মিলতে হবে, বাংলাদেশের তার একটির সমাধান পাওয়া যাবে মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলতে নামার আগেই। নেপাল-পাকিস্তান ম্যাচের সঙ্গেও যে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ভাগ্য। দিলি্লর জওয়াহেরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচের


আগেও টেনশনে কাটাতে হবে ইলিয়েভস্কিকে। পাকিস্তান না জিতুক_ এ প্রার্থনা করতে হবে তাকে। ম্যাচ ড্র কিংবা পাকিস্তানের হারই যে বাঁচিয়ে রাখবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা। সে ক্ষেত্রে মালদ্বীপের বিপক্ষে জিতলেই সেমিতে উঠে যাবে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের ফল বাংলাদেশের পক্ষে না এলে মালদ্বীপকে হারালেও ফিরতি ফ্লাইট ধরতে হবে সুজনদের। কঠিন এ সমীকরণে দাঁড়িয়ে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মালদ্বীপের মুখোমুখি হচ্ছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাংলাদেশ। স্বস্তিতে নেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরের রানার্সআপ মালদ্বীপও। ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট পাওয়া দলটিরও যে আজ জয়ের বিকল্প নেই। ড্রয়েও তাদের শেষ চার নিশ্চিত হবে যদি পাকিস্তানের বিপক্ষে নেপালের জয়ের খবর শুনে মাঠে নামতে পারে তারা। দেখার একটাই_ আজ মেলে কি-না সমীকরণ।
একসময় ছিল যখন মালদ্বীপকে গুনে গুনে গোল দিত বাংলাদেশ। '৮৪ আর '৮৫-এর সাফ গেমসে যথাক্রমে ৫-০ ও ৮-০ ব্যবধানের জয় এখন শুধুই স্মৃতি। আশির দশকের পর থেকে পাল্টে যেতে থাকে মালদ্বীপের ফুটবল। আস্তে আস্তে পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয় তারা। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের স্বাদও নেয় দ্বীপ দেশটি। '৯৩ ও '৯৪-এর সাফ গেমস এবং '৯৭-এর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ_ টানা তিন আসরে বাংলাদেশকে রুখে দিয়ে '৯৯-এর কাঠমান্ডু সাফ গেমসে জিতেই মাঠ ছাড়ে মালদ্বীপ। আগের নয় সাক্ষাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই একটি জয়ই আছে মালদ্বীপের ঝুলিতে। বাংলাদেশ ৩ ম্যাচে সরাসরি হারিয়েছে মালদ্বীপকে, এক ম্যাচ হারিয়েছে টাইব্রেকারে। ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তৃতীয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওই টাইব্রেকারের জয়টি বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে প্রথম শ্রেষ্ঠত্ব। তারপর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের তিন আসরে আর মালদ্বীপের মুখোমুখি হয়নি বাংলাদেশ।
কী হলে কী হবে, সে হিসাব জানা আছে বাংলাদেশের মেসেডোনিয়ান কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কির। তিনি খেলোয়াড়দের বলেছেন, 'অন্য ম্যাচে কী হলো না হলো, তা ঝেড়ে ফেলতে হবে মাথা থেকে। মালদ্বীপের বিপক্ষে জিততেই হবে।' বাংলাদেশ কোচ বলেছেন, তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন জয়ই একমাত্র পথ সামনে হাঁটার। মালদ্বীপের বিপক্ষে একাদশও ঠিক করে ফেলেছেন নিকোলা। নেপালের কাছে শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়ায় যার ব্যর্থতা বেশি সেই তরুণ গোলরক্ষক সোহেলই ভরসা ইলিয়েভস্কির। প্রথম একাদশের অন্যরা হলেন_ সুজন, মামুন মিয়া, আরিফ, রেজাউল, নাসির, কোমল, প্রাণতোষ, ইমন বাবু, আলমগীর রানা ও মিঠুন চৌধুরী।
মালদ্বীপকে যেমন সমীহ করছেন বাংলাদেশ কোচ তেমন বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ বলেছেন মালদ্বীপের হাঙ্গেরিয়ান কোচ ইস্তিভান উরবানি। 'নেপালের কাছে হারলেও শেষ ১০ মিনিটে বাংলাদেশ অন্তত তিনটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। বাংলাদেশ অনেক ভালো দল। তারপরও আমরা চেষ্টা করব শেষ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে'_ বলেন মালদ্বীপ কোচ।
সেমির পথে ভারত ও আফগানিস্তান : আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছিল ভারত। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য জয় প্রয়োজন ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে। গতকাল দুর্বল ভুটানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে স্বাগতিকরা। গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের জয় দু'দলেরই সেমিফাইনালের পথ প্রশস্ত করেছে। ২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় আসরে অভিষেক হওয়া আফগানদের গতকালের আগে জয় ছিল একটি। ২০০৫ সালে করাচিতে গ্রুপ ম্যাচে শ্রীলংকাকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। অর্ধযুগ পর সেই শ্রীলংকাকে হারিয়ে পাওয়া দ্বিতীয় জয়টি এখন তাদের হাতছানি দিচ্ছে সেমিফাইনালের। শেষ ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ড্র করলেই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। ১৭ মিনিটে জেইনের গোলে এগিয়েছিল শ্রীলংকা। ম্যাচে ফিরতে ৫ মিনিট সময় নিয়েছিল আফগানিস্তান। আহমেদি সমতা আনেন ২২ মিনিটে। ৩৬ মিনিটে দলকে এগিয়েও দেন তিনি। ৭৮ মিনিটে ইয়ামরালির গোল সহজ জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তানের। ভারত শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলংকার। না হারলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে চ্যাম্পিয়নদের।

No comments

Powered by Blogger.