বিক্ষোভ-লাঠিপেটার পর রাজশাহী নার্সিং কলেজ বন্ধ ঘোষণা-২০ শিক্ষার্থী আহত

রাজশাহী নার্সিং কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষকে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাঁরা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে অধ্যক্ষকে কক্ষ থেকে বের করে আনে।এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কলেজ ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কলেজের মহিলা হোস্টেল খালি করার নির্দেশ দিলে শিক্ষার্থীরা


কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ অবস্থায় সন্ধ্যার আগে অধ্যক্ষ কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান।
রাতে অধ্যক্ষ সাদেকা খাতুনের সঙ্গে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
'ইয়ার লস' বন্ধ ও সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কলেজ অধ্যক্ষ অফিসকক্ষে প্রবেশ করার পরপরই শিক্ষার্থীরা তাঁর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পাশাপাশি তাঁরা কলেজের সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
খবর পেয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া ও সহকারী অধ্যক্ষ ডা. দায়েম উদ্দিন নার্সিং কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ সাদেকা খাতুনকে মুক্ত করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অবস্থানে অনড় থেকে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে দুপুর ২টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহাদৎ হোসেন ঘটনাস্থলে যান এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তাতেও কাজ না হলে বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ তালা ভেঙে কলেজের ভেতরে ঢুকে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, পুলিশের লাঠিপেটায় আহতদের মধ্যে সুস্মিতা, বিপাশা, সুলতানা, মাহমুদা, শিল্পী ও আসিক নামের ছয় শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নার্সিং কলেজের জানালা-দরজার কাচ ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন। বিকেলে মহিলা হোস্টেল খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর তিন শতাধিক শিক্ষার্থী বইপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং কলেজ গেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সন্ধ্যায়ও তাঁদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
এ ব্যাপারে নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি মোকাররম হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় অধ্যক্ষ সাদেকা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে মুক্ত করে আনার জন্য তালা ভাঙা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। অধ্যক্ষ সাদেকা খাতুন এ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
দাবি আদায়ে নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা গত নভেম্বর থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব, নার্সিং কলেজের সব পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন করে আসছেন। গত ১ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের গত রবিবারের মধ্যে আন্দোলন বন্ধের নির্দেশ দেন।

No comments

Powered by Blogger.