বিভাজনে বৈষম্যের শিকার হতে পারে ডিসিসি দক্ষিণ

দ্বিখণ্ডিত ঢাকা সিটি করপোরেশনে বৈষম্যের শিকার হতে পারে ডিসিসি দক্ষিণ। সম্পদের পরিমাণ ও রাজস্ব আদায়_উভয় ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছে ডিসিসি দক্ষিণ। এত দিন উত্তরের অংশ থেকে আদায় হওয়া রাজস্বের বেশির ভাগই ব্যয় হয়েছে দক্ষিণের উন্নয়নের জন্য। ভাগ হওয়ার পর উত্তরের রাজস্ব আর দক্ষিণে ব্যয় করার সুযোগ থাকবে না। ফলে উন্নয়নবঞ্চিত হতে পারে দক্ষিণের বাসিন্দারা।


সম্প্রতি ডিসিসির পুরো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করেছে ডিসিসি। তাতে দেখা গেছে, ৩৪ একর বা ১০২ বিঘা জমি বেশি পড়েছে ডিসিসি উত্তরে। এসব জমির দামও দক্ষিণের চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া রাজস্ব আয়ের প্রধান মাধ্যম হোল্ডিংগুলোর বেশির ভাগ পড়েছে উত্তরে। নতুন নতুন বহুতল ভবনের এসব হোল্ডিংয়ের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ও হয় বেশি।
ডিসিসির নথি থেকে দেখা গেছে, ডিসিসি দক্ষিণে হোল্ডিংয়ের সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার ৭৯৮টি। এখান থেকে গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৬১ কোটি টাকা। ডিসিসি উত্তরে হোল্ডিং পড়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৪৭৮টি। গত অর্থবছরে এসব হোল্ডিং থেকে ডিসিসি রাজস্ব পেয়েছে ৪৯৬ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রাপ্তির ব্যবধান প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। এর আগের বছরগুলোতে মোট রাজস্ব আদায়ের ৭০ শতাংশই এসেছে ডিসিসির উত্তর অংশ থেকে। এ রাজস্বের বেশির ভাগই ব্যয় হয়েছে দক্ষিণাংশের জন্য। চলেছে রাস্তা, ড্রেন, ফুটপাথের আধুনিকায়নসহ নানা উন্নয়নকাজ। এ ছাড়া দক্ষিণে বেশ কিছু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো পরিচালনায়ও ডিসিসিকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শরীরচর্চা কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান_এ ধরনের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান পড়েছে ডিসিসি দক্ষিণে। দক্ষিণাংশে গুরুত্বপূর্ণ অফিস কম থাকায় সরকারি বরাদ্দও বেশি পাওয়া গেছে উত্তরের জন্য। জানা গেছে, উত্তরের তুলনায় ডিসিসি দক্ষিণে লোকসংখ্যা বেশি।
আবার ঢাকা মহানগরীর প্রধান তিনটি বাস টার্মিনালের মধ্যে গাবতলী ও মহাখালী পড়েছে ডিসিসি উত্তরে। এ খাত থেকেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পায় ডিসিসি। গাবতলীর একমাত্র স্থায়ী পশুহাটও পড়েছে উত্তরে। এ খাত থেকে এ বছর ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া গেছে। আবার ডিসিসি দক্ষিণে জমির পরিমাণ পড়েছে ৪২৯ দশমিক ২১ একর। এই জমির দামও ডিসিসি উত্তরের তুলনায় কম। উত্তর এলাকা অনেকটা উন্নত হওয়ায় এ এলাকায় যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণেও বেসরকারি উদ্যোক্তারা আগ্রহী হয়। উত্তরে জমি পড়েছে ৪৬৩ দশমিক ৮০ একর।
ডিসিসির এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, মূল নগর ভবন পড়েছে ডিসিসি দক্ষিণে। এটার রক্ষণাবেক্ষণেও ডিসিসিকে একটি বড় অর্থ ব্যয় করতে হয়। ডিসিসি ভাগ হওয়ার পর এখানে একটি কার্যালয় থাকলেও সেই ব্যয় কমবে না।
অন্যদিকে দক্ষিণের সব রাস্তারই মেরামত ও আধুনিকায়ন করতে হয় ডিসিসিকে। কিন্তু উত্তরের অংশের বেশ কিছু রাস্তা আছে রাজউক বা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। এসব রাস্তা মেরামতে ডিসিসিকে অর্থ ব্যয় করতে হয় না। এ অবস্থায় নানা দিক বিবেচনা করে ডিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মনে করছেন, উন্নয়নের দিক থেকে ভবিষ্যতে বঞ্চিত হতে পারে ডিসিসি দক্ষিণ। তবে সম্পত্তির বিভাজন কিভাবে হবে, সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ডিসিসির সম্পত্তি বিভাগ থেকে তৈরি সম্পদের তালিকা দু-এক দিনের মধ্যেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত করবে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা কিভাবে হবে।
ডিসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা গোলাম রহমান মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, 'সম্পত্তির তালিকা তৈরি করা খুব কঠিন কাজ। এর পরও আমরা সেটা শেষ করতে পেরেছি। কোন জায়গা ডিসিসির কোন অংশে পড়েছে, সেটা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়কে জানাব। তারাই চূড়ান্তভাবে সব ঠিক করবে।'

No comments

Powered by Blogger.