কারাগারে মাদকাসক্ত-দৃঢ় করতে হবে সামাজিক বন্ধন

রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো খবর। চট্টগ্রাম কারাগারে আটক চার হাজার ৭০০ বন্দির ৩২ শতাংশই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার আসামি। প্রতিদিন কারাগারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আসছে, এমন খবর আরো আতঙ্কিত করে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, প্রতিদিন জামিন নিয়ে এ মামলার অনেক আসামি বেরিয়ে গেলেও তাদের ব্যাপারে কোনো খবর জানা যায় না। তবে একাধিকবার মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আসা মাদকাসক্তের সংখ্যাও কম নয়।


দেশে মাদক ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে_এমন খবর এখন আর নতুন কিছু নয়। সারা দেশেই যেন ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। দেশটাই যেন মাদকের একটা বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। একদিকে মাদক প্রবেশের পথ খোলা রাখায় প্রায় অবাধে দেশে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে, অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিস্তৃত হয়েছে নেটওয়ার্ক। সহজে অধিক মুনাফার লোভে অনেকেই জড়িয়ে পড়েছে এ ব্যবসার সঙ্গে। একবার এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে তা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। অন্যদিকে মাদকসেবীর সংখ্যাও বাড়ছে। নানা রকম হতাশা থেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে এক শ্রেণীর মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখা যায়। পরিসংখ্যান করলে দেখা যাবে, পারিবারিক বন্ধনগুলো ঢিলে হয়ে যাওয়ার কারণেই অনেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। নিয়মিত মাদক সেবন করে। পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে যায়। কারাগার থেকে জামিনে বা দণ্ডভোগ শেষে বেরিয়ে আসার পর আবার সেই অন্ধকার পথে তাদের পা বাড়াতে দেখা যায়।
কারাগারে আটক মাদকসেবীদের সম্পর্কে পত্রিকান্তরে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম কারাগারে আটক মাদকাসক্তদের প্রায় ৮৫ শতাংশ ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। তাদের বেশির ভাগ নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের। খবরে আরো বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম কারাগারে মাদকাসক্তদের মধ্যে দুই বা ততোধিক ধরনের মাদকসেবীর সংখ্যা ১০ শতাংশের মতো। কারাগারে আটক মাদকাসক্তদের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মন্দ লোকের সংস্পর্শে এসে মাদক নিয়েছে। তবে হতাশা থেকে মাদক গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি। এই হার ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ। পারিবারিক কলহ, বিশেষ করে মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে, এমন পরিবারের সন্তানদের মধ্যেও মাদক সেবনের প্রবণতা রয়েছে।
আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনগুলো অনেক আগেই ঢিলে হয়ে গেছে। অনেক পরিবারের সদস্যরাই এখন ঝুঁকে পড়ছে মাদকের দিকে। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনগুলো আগের মতো ফিরিয়ে আনতে পারলে এ সংকট থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলতে পারে। বন্ধনগুলো দৃঢ় করতে পারলে হতাশা থাকবে না। সমাজে সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবেই মাদকের ছোবল থেকে মুক্তি মিলতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.