যুদ্ধাপরাধী বিচারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাবে॥ হাসানুল হক ইনু, এমপি- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক এমপি কর্তৃক সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যের পুনর্বিবরণী

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন১৯৭৩ প্রণয়নের পটভূমি বাঙালী জাতির স্বাধিকার সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭০-৭১-এর সাধারণ নির্বাচন একটি মাইলফলক।
উক্ত নির্বাচনে এদেশের জনগণ তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের প্রায় সকল আসনে এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থিগণকে নির্বাচিত করে সংবিধান প্রণয়নসহ জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার পে সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছিল। কিন্তু তদানীন্তন পাকিস্তানী সামরিক জান্তা জনগণের এই ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পরিবর্তে উহাকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ শান্তি ও মানবতাবিরোধী অন্যান্য অপরাধ সংঘটন করতে থাকে। এ প্রোপটে বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেনÑযা তদানীন্তন ইপিআরের ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সর্বত্র প্রচারিত হয়। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগিতায় স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে নির্বিচারে মানবতাবিরোধী অপরাধ যেমন খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা ইত্যাদি শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন দ-যোগ্য অন্যান্য অপরাধ সংঘটন করে এবং দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে, ২ লাধিক মা বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করে, প্রায় ১ কোটি মানুষ বা¯'হারা হয়ে পাশ্বর্বর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হয় এবং ৩ কোটি মানুষকে গৃহহারা করে। এই কুখ্যাত রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত ঠা-া মাথায় স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার ল্েয বিজয়ের মাত্র কয়েক দিন পূর্বে হাজার হাজার বুদ্ধিজীবীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ যেমন খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা ইত্যাদি শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন দ-যোগ্য অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির বিচার ও দ- প্রদানের জন্য বাংলাদেশ কলাবরেটরস (¯েপশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার, ১৯৭২ জারি করা হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ প্রণয়ন করা হয়।
বাংলাদেশ কলাবরেটরস (¯েপশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম

বাংলাদেশ কলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার, ১৯৭২ এর অধীন প্রায় ৩৭০০০ অপরাধীকে আটক করা হয়Ñযাদের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধ যেমন খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা ইত্যাদি শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন দ-যোগ্য অন্যান্য অপরাধ সংঘটনকারী প্রায় ১১০০০ অপরাধীকে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়। এই সকল অপরাধীদের বিচারের জন্য সারা বাংলাদেশে মোট ৭৩টি ¯েপশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালে বিচারান্তে ২২ জনকে মৃত্যুদ-, ৬৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ৭৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দ-িত করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে শংসভাবে হত্যা করা হয় এবং সামরিক শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশ কলাবরেটরস (¯েপশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার, ১৯৭২-এর অধীন পরিচালিত বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এক সামরিক ফরমান বলে ৩১-১২-১৯৭৫ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশ কলাবরেটরস (¯েপশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার, ১৯৭২ বাতিল করে উক্ত আইনের অধীন দ-িত ও আটক সকল অপরাধীকে মুক্তি দিয়ে তাদেরকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। জেনারেল জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে ৬ এপ্রিল ১৯৭৯ তারিখে সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে সকল সামরিক ফরমানের বৈধতা প্রদান করেন।

৪০ বছর পরে কেন আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল গঠন

বাংলাদেশের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর অধীন অপরাধ সংঘটনকারীদের তদন্ত ও বিচার পরিচালনার জন্য প্রসিকিউশন টিম গঠন করা হয়। কিš' ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর এ বিচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান তার সামরিক শাসনামলে কিংবা সেনা ছাউনিতে থেকে গড়া তার দল বিএনপি ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত মতায় থাকা পর্যন্ত এ বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে রাখে। ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মতা গ্রহণের পর দীর্ঘ প্রায় এক দশক মতায় থাকাকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর অধীন কোন বিচার কার্যক্রম শুরু করেনি। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী কতর্"ক পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধ যেমন খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা ইত্যাদি শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন দ-যোগ্য অন্যান্য অপরাধের বিচারের দাবিতে গোটা জাতি সোচ্চার থাকা সত্ত্বেও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপি অপ্রত্যাশিতভাবে মতায় যেয়ে জাতীয় দাবির প্রতি কোনরূপ সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয় এবং তার পূর্বসূরী জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এরশাদের ন্যায় রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর জঘন্য অপরাধীদের বিচার করা থেকে পরিকল্পিতভাবে বিরত থাকে।
১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যাকা-ের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান প্রতিবন্ধকতা ওহফবসহরঃু ঙৎফরহধহপব, ১৯৭৫ বাতিল করে উক্ত বিচারকার্য স¤পন্ন করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করে। একই সঙ্গে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করা সংক্রান্ত মামলার বিচার স¤পন্ন করে। কিন্তু ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়- আন্তর্জাতিক গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে দ- কার্যকর করার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জাতিকে নতুনভাবে কলঙ্কে ফেলে দেয়। মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ যেমন খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন দ-যোগ্য অন্যান্য অপরাধের হোতা রাজাকার, আলবদর প্রধানদের মন্ত্রিত্ব দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া নতুনভাবে বাঙালী জাতিকে কলঙ্কিত করেন এবং বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চরম অবমাননা করেন। এমনকি ১/১১-এর পর মতা গ্রহণকারী তত্ত্বাবধায়ক সরকারও তাদের মেয়াদকালে এ বিচারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
বাঙালী জাতির দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি ও আকাড়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট ২০০৮ সনে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ যেমন খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন দ-যোগ্য অন্যান্য অপরাধ সংঘটনকারীদের সুষ্ঠু বিচার করে দ- প্রদানের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। মহাজোট সরকার মতা গ্রহণের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া সফলভাবে স¤পন্ন করে দ- কার্যকর করার মাধ্যমে জাতিকে সুদীর্ঘকালের কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিয়েছে। একইভাবে মহাজোট সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জাতিকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ যেমন খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন দ-যোগ্য অন্যান্য অপরাধ সংঘটনকারীদের সুষ্ঠু বিচার করে দ- প্রদানের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য নবম জাতীয় সংসদের ২৯ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সার্বভৌম জাতীয় সংসদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ৬ অনুযায়ী ২৫ মার্চ ২০১০ তারিখে আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্দেশ্য

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর অধীন প্রধানত যে সকল উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে তা হলোÑ
(১) দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করা
(২) ঘৃণ্য অপরাধীদের মাফ করে দেয়ার সংস্কৃতির অবসান করা
(৩) তিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুবিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা
(৪) জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রকৃতি

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বভৌম জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত একটি দেশীয় আইন এবং এ আইনের ৬ ধারার অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনাল একটি দেশীয় ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ৩-এর উপধারা (২) এ সংজ্ঞায়িত অপরাধসমূহ আন্তর্জাতিক আইনে সংজ্ঞায়িত অপরাধসমূহের পর্যায়ভুক্ত বিধায় আইনটির নামকরণ করা হয়েছে ঞযব ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈৎরসবং (ঞৎরনঁহধষং) অপঃ ১৯৭৩ অর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবে সংজ্ঞায়িত অপরাধের পর্যায়ভুক্ত যেসব অপরাধ এ আইনের ধারা ৩-এর উপধারা (২) এ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে ঐসব অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণের বিচারের জন্যই দেশীয় আইনের অধীনে দেশীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
(বাকি অংশ আগামীকাল)

No comments

Powered by Blogger.