স্বস্তি ফিরুক জনজীবনে

একসঙ্গে দুটি ভালো খবর পাওয়া গেল। একদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধান ও চালের দাম কমতে শুরু করেছে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে কমেছে চিনি ও ভোজ্য তেলের দাম। কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, বোরো মৌসুম ঘনিয়ে আসায় কৃষকের ঘরের মজুদ ধান হাটে উঠতে শুরু করেছে।


একই কারণে মিল মালিকরা ধানের মজুদ ছাড়তে শুরু করায় বাজারে চালের সরবরাহ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে অঞ্চলভেদে মোটা ধানের দাম মণপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে। ঢাকার পাইকারি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। পাইকারি বাজারে চালের দাম মণপ্রতি কমেছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। তবে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। গত এক সপ্তাহে মোটা চালের দাম মণপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং মাঝারি মানের চালের দাম মণপ্রতি ৩০ টাকা কমেছে।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এবার উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি ও ভোজ্য তেলের দাম কমছে। ব্রাজিলে চিনি ও ভোজ্য তেলের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ভারতে উৎপাদন ভালো হওয়ায় দেশটির সরকার চিনি রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সয়াবিনের উৎপাদন বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সে দেশের কৃষি বিভাগ। ভালো ফলন মানেই জোগান বৃদ্ধি। তাই বহির্বিশ্বে চিনি ও ভোজ্য তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ঢাকার পাইকারি বাজারে চিনির দাম কেজিপ্রতি দুই টাকা কমেছে। ভোজ্য তেলের দাম কমেছে লিটারপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা। বাজারে ভোজ্য তেল ও চিনির দাম কমা শুরু হওয়া একটি ভালো লক্ষণ। মিল মালিকরা ধানের মজুদ ছাড়তে শুরু করেছে বলে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোজ্য তেল ও চিনির ক্ষেত্রে আমাদের আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই দুই পণ্যের জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই দুই পণ্যের দাম বাড়লে আমাদের এখানেও তার প্রভাব পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে আমাদের বাজারেও দাম বাড়ে। দেশের বাজারের চরিত্র অনুযায়ী অতীত অভিজ্ঞতায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সাধারণত তার প্রভাব এখানে খুব একটা পড়ে না। বাজারে অদৃশ্য এক সিন্ডিকেট আছে। সেই সিন্ডিকেট সব সময়ই এই সুবিধা নিয়ে থাকে। বাইরের বাজারের দাম বৃদ্ধির সুযোগে এখানকার বাজারে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে এখানে দাম কমে না অদৃশ্য ওই সিন্ডিকেটের কারসাজিতে। এবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। কিছুটা হলেও তার প্রভাব আমাদের দেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এখানেও দাম কমছে।
বাজার এখন সবার অস্বস্তির কারণ। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছিল। কোনোভাবেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব হচ্ছিল না। জনজীবনে অস্বস্তির প্রধান কারণ ছিল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। বাজারে জিনিসপত্রের দাম সহনশীল হলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে। আর জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাজারে জিনিসপত্রের দাম কমুক, স্বস্তি ফিরুক জনজীবনে।

No comments

Powered by Blogger.