বুক অব ফ্যাক্টস-তরল by আইজ্যাক আজিমভ

 আমাজন নদীর ১১০০ শাখা-প্রশাখা রয়েছে।  প্রশস্ততম নদী হওয়া ছাড়াও আমাজন সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘ (অনুমান ৪২০০ মাইল) সবচেয়ে বড় এলাকা দখলকারী (২৭,৭২,০০০ বর্গমাইল) এবং সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পানি সাগরে ঢালার (৭২,০০,০০০ ঘনফুট/সেকেন্ড) দিক দিয়েও আমাজন নদী স্বতন্ত্র।


 আগে শিকাগো নদী মিশিগান হ্রদে গিয়ে পড়ত। প্রকৌশল দক্ষতার মাধ্যমে বিষয়টি উল্টে ফেলা হয়েছে: এখন হ্রদ থেকে পানি গিয়ে পড়ে নদীতে।
 পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সব জলীয় বাষ্পকে একই সময়ে ঘনীভূত করে তরল পানিতে পরিণত করলে যুক্তরাষ্ট্রকে (আলাস্কা থেকে হাওয়াইসহ) ২৫ ফুট গভীর পানির নিচে ঢেকে ফেলা যাবে।
 পৃথিবীর সমস্ত পানির শতকরা ১ দশমিক ৬ ভাগ মাত্র সুপেয়। এর অধিকাংশই মেরু এবং সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়ায় তুষার ও বরফ হিসেবে রয়েছে—যা জীবের ব্যবহার-অনুপযোগী।
 একটা বড়সড় ওকগাছ আদর্শ বাড়ন্ত ঋতুতে ২৮ হাজার গ্যালন আর্দ্রতা ত্যাগ করে।
 মানুষ অদ্রবণীয় কোনো কিছুর গন্ধ বা স্বাদ নিতে পারে না। শুকনো জিহ্বায় চিনির কোনো স্বাদ নেই। শুকনো নাকে একটি ফুলের গন্ধও কোনো প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে না। গন্ধ পাওয়ার জন্য যেকোনো কিছুকে বাতাসে ভেসে আসতে হয়।
 সম্পূর্ণ স্থির পানিকে হিমাঙ্কের (৩২০ ফা. ০০ সে.) কয়েক ডিগ্রি নিচে পর্যন্ত নামানো এবং তরল রাখা যেতে পারে।
 স্পঞ্জ তার ছিদ্র দিয়ে যে সমুদ্রের পানি ঢোকে সেখান থেকেই খাদ্যকণা শুষে নেয়। দেহের ওজন এক আউন্স বাড়ানোর মতো যথেষ্ট খাদ্য গ্রহণের আগে একটা স্পঞ্জকে এক টন পানি ফিল্টার করতে হয়।
 ১৫৪১ সালে হানান্দো ডি সোটোর মিসিসিপি নদী আবিষ্কার এবং হেনরি রো স্কুলক্র্যাফটের নেতৃত্বে একটি সরকারি গবেষণা দলের নদীর উৎস আবিষ্কারের মধ্যে প্রায় তিন শতাব্দী পার হয়ে গেছে।
 প্রথম বরফ যুগের সময় সমুদ্রপৃষ্ঠ ৪০০ ফুট নেমে যায়। পৃথিবীর অধিকাংশ পানি আইস ক্যাপ শোষণ করে নিয়েছিল।
 পৃথিবীতে পানিই একমাত্র পদার্থ যা কঠিন, তরল ও বায়বীয় অবস্থায় থাকে। মহাসাগর পানিতে পূর্ণ। মাইলের পর মাইল গভীর বরফে পূর্ণ পোলার ক্যাপ। বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশ জলীয় বাষ্প দিয়ে তৈরি।
 মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির একজন বিজ্ঞানী হিসাব করেছেন, মাত্র একটা মুরগির ডিম উৎপাদনে ১২০ গ্যালন, একটি পাউরুটি উৎপাদনে ৩০০ গ্যালন এবং এক পাউন্ড বিয়ার তৈরিতে ৩৫০০ গ্যালন পানির প্রয়োজন।
 এক ফোঁটা পানি এত অণু দিয়ে গঠিত—প্রায় ১৭ কুইন্টিলিয়ন (১,৭০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০)—যদি একে সব মহাসাগরের সব পানি দিয়ে পাতলা করা হয়, ওই মহাসাগরের পানির এক পাঁইটে এসব অণুর প্রায় ২৪টা থাকে।
 আমাজন নদী আটলান্টিকে এত বিপুল পরিমাণ পানি ঢেলে দেয় যে, সাগরের ১০০ মাইলেরও বেশি পর্যন্ত নদীর মুখ থেকে একজন সাগরের মধ্যেই পরিষ্কার পানিতে ডুব দিতে পারবে এবং পান করতে পারবে।
 সৌভাগ্যক্রমে একটি ঢেউয়ে থাকা পানি এর সঙ্গে সাগর অতিক্রম করে না। যদি তাই হতো, নৌচালনা বাস্তবিক অর্থে অসম্ভব হয়ে পড়ত। ঢেউয়ের প্রতিটি পানিকণা একটি বৃত্তাকার কক্ষপথ তৈরি করে এবং আসল অবস্থানের খুব কাছেই ফিরে আসে।
 ওশ্যানোগ্রাফারদের কাছে সাধারণত গ্রহণযোগ্য সবচেয়ে উঁচু ঢেউ দেখা গিয়েছিল ১৯৩৩ সালের ৬-৭ ফেব্রুয়ারি প্রশান্ত মহাসাগরে ইউএসএস র‌্যামাপো থেকে একটি ৬৮ (ঘণ্টায় ৭৮ মাইল) নট হারিকেনের সময়। গোড়া থেকে চূড়া পর্যন্ত ঢেউটার উচ্চতা হিসাব করা হয়েছিল ১১২ ফুট।
 প্রতিবছর চীনের ইয়েলো নদী সাগরে এত বিপুল পরিমাণ লয়েস (মরুভূমি থেকে উড়ে আসা একধরনের হলুদ দো-আঁশলা মাটির স্তূপ) বয়ে নিয়ে যায়, যা দিয়ে একটা তিন ফুট উঁচু ও তিন ফুট পুরু দেয়াল তৈরি করা যাবে, যা দৈর্ঘ্যে চীনের প্রাচীরকেও ছাড়িয়ে যাবে।
 ভেনেজুয়েলার সালটো আলটো (অ্যাঞ্জেল কলম) সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত। এটি নায়াগ্রার চেয়ে ২০ গুণ উঁচু।
 পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ—কোথাও কোথাও এটি এক মাইল গভীর সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদ। যদিও সুপেরিয়র হ্রদের আয়তন বেশি, বৈকালের ১৩ হাজার বর্গমাইলের তুলনায় ৩২ হাজার বর্গমাইল, এতে পানি কম। পৃথিবীর সুপেয় পানির সবচেয়ে বড় আধার হলো বৈকাল হ্রদ।
 ভাষান্তর হাসান খুরশীদ

No comments

Powered by Blogger.