চারদিক-যাবেন নাকি ঘুড়ি উৎসবে?

র্বশেষ ঘুড়ি উড়িয়েছেন কখন, মনে পড়ে? ছোটবেলার সেই আনন্দের স্বাদ পেতে এর আগে ঘুড়ি উৎসবে গিয়েছিলেন বুঝি? এবারও কি যাওয়ার ইচ্ছা আছে? তাহলে এখন থেকেই শুরু করে দিতে পারেন দিন গোনা। হাতে কিন্তু আর বেশি দিন নেই। এখনই যদি প্রস্তুত না হন, তাহলে উৎসবের দিনে পড়তে হবে হুড়োহুড়িতে। না, এই উৎসব নিয়ে একদম তাড়াহুড়ো করতে চান না ছবির হাটের হাটুরেরা। এ কারণে এখনই সেখানে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি।


ছবির হাট? চলুন, একটু জেনে নেওয়া যাক। চারুকলার গেটের ঠিক উল্টো দিকেই অবস্থিত। এটি মূলত শিল্পীদের মিলনমেলা। প্রতি শুক্রবার বিকেল হলেই বিভিন্ন ধরনের শিল্পীর আগমনে মুখর হয়ে ওঠে ছবির হাট। এখানে তাঁরা নিয়ে আসেন তাঁদের বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম। আর সেসব শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ হন অনেকে। এই শিল্পীদের কাজেরই একটি অংশ হচ্ছে ঘুড়ি উৎসব। এবার অষ্টমবারের মতো ছবির হাট আয়োজন করতে যাচ্ছে ঘুড়ি উৎসব।
সম্প্রতি এক বিকেলে গিয়ে দেখে এলাম তাঁদেরই সেই উৎসবের প্রস্তুতি। বিগত সাতবার যেসব ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন হয়েছে, তাতে কখনোই বাইরের কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। এখানে এসে শিল্পীরা নিজের মতো করে কিছু শিল্পকর্ম তৈরি করেন। তারপর যদি সেটা কেউ কিনে নিয়ে যান, তাহলে সেই টাকা দিয়েই চলে ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন। এখানে যে যা কিছু করেন, সবই মূলত স্বেচ্ছাশ্রম। যাঁর যা ইচ্ছা, তা নিয়ে কাজ করেই তাঁরা শামিল হচ্ছেন ঘুড়ি উৎসবের আয়োজনে।
শিল্পী রাশেদুল খুদার তুলির ছোঁয়ায় একটি শিল্পকর্ম যেন প্রাণ পাচ্ছিল। এমন সময় একজন ব্যক্তি এলেন তাঁর কাছে। নাম ডাবলু। এসেছিলেন দিনাজপুর থেকে। তাঁরও ঘুড়ি উৎসবে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রবল। হ্যাঁ, এমনই শত শত মানুষ রয়েছেন, যাঁরা যোগ দিতে চান ঘুড়ি উৎসবে। এমন করেই অনেকের প্রাণে জায়গা করে নিয়েছে এ উৎসব। কথা হয় শিল্পী রাশেদুল খুদার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এখানে কাজ করি মনের টানে। মন যা চায়, তা-ই করি। তারপর কারও সেটা পছন্দ হলে নিয়ে যায় নিজেদের জন্য।’ এবারেও বিশাল বিশাল ঘুড়ি উড়বে কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতের আকাশে। বানানো হবে জলকন্যা, মাছ, মোরগ, গরুর গাড়ি, মানুষ প্রভৃতি ধরনের ঘুড়ি। এরপর সেসব ওড়ানো হবে নীল আকাশে।
ছবির হাটের আরেক শিল্পী সালেহ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের এখানে এই প্রস্তুতিতে কারও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যে যখন চায়, যতটুকু চায়, নিজের কাজ দিয়ে যেতে পারে। কেউ যদি মনে করে বিকেল থেকে রাত অবধি ছবি আঁকবে, তাহলেও যেমন বলার কিছু নেই, তেমনি না আঁকলেও কেউ মন খারাপ করবে না। সবাই এখানে কাজ করে নিজের মনের তাগিদে। আর আমাদের কাজের ফাঁকে ফাঁকে আড্ডাও চলে বেশ। সময়টা তাই কেটে যায় ভালোই।’
এবারের প্রস্তুতির টাকা আয়ের জন্য কেবল করা হচ্ছে চিত্রকর্ম। এখন পর্যন্ত এখানে গেলে পাবেন অ্যাক্রেলিক ও জলরঙের কাজকর্ম। হয়তো পরে আরও কিছু কাজ পাওয়া যাবে এখানে। ছবির হাটের এই আড্ডায় যেমন পুরোনো শিল্পীদের দেখা পাবেন, তেমনি নতুন শিল্পীরাও কম আসছেন না। তাঁরা নিজেরাও কিছু এঁকে অংশ নিচ্ছেন ঘুড়ি উৎসবে। বাচ্চারা এসে এখানে চাইলে আঁকতে পারে ছবি।
শিল্পীদের পেছনের দেয়ালটা কিছু ছবি দিয়ে সাজানো। আর তাঁদের পেছনে অনেক উৎসুক চোখের ভিড়। সবাই দেখছেন। অবশ্য কেউ কেউ কেনার কথাও মাথায় রাখছেন। অনেকেই কিছু কিছু ছবির কথা বলে যাচ্ছেন, পরে এসে নিয়ে যাবেন। আর নেবেন নাই-বা কেন। এখানে যেসব শিল্পীর আঁকা ছবি পাবেন, তা যদি কোনো গ্যালারি থেকে কিনতে যান, তাহলে দাম পড়বে অনেক টাকা। সেই শিল্পীরই ছবি আপনি এখানে পাবেন একেবারে স্বল্প মূল্যে। এতে করে দুই কাজ হবে—এক, অল্প মূল্যে পেয়ে যাবেন আকর্ষণীয় ছবি; আর দুই, ঘুড়ি উৎসবে হয়ে উঠবেন একটা অংশ। ঘুড়ি উৎসবের জন্য এমন করে ছবির প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে কর্মশালা। চলবে ২৯ তারিখ পর্যন্ত। মূল উৎসবের মূলত একটা প্রস্তুতি এটা। আগামী ২ মার্চ হবে মূল উৎসব। এত দূরে গিয়ে সেই উৎসবে অংশ নেওয়া যদি সম্ভব না-ও হয়, তাহলে ছবির হাটের শিল্পকর্মগুলো কিনতে পারেন। এতে করে একভাবে যুক্ত হবেন ঘুড়ি উৎসবের সঙ্গে। তো, যাবেন নাকি ঘুড়ি উৎসবে?
শর্মিলা সিনড্রেলা

No comments

Powered by Blogger.