সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী-সুশীল সমাজভুক্তদেরও ক্ষমতার লোভে পায়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সুশীল সমাজ সব সময় যে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে, তা নয়। কোনো কোনো সময় সুশীল সমাজের সদস্যরা ব্যক্তিস্বার্থকে বড় করে দেখেন। ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার জন্য তাঁরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সেনাদের পক্ষে অবস্থান নেন।গতকাল শুক্রবার ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব সোশ্যাল ফিলোসফি (আইসিএসপি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ
\
হাসিনা এ মন্তব্য করেন। ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, গণতন্ত্র, নাগরিকসমাজ ও সুশাসন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দুর্নীতি এক ভাগ নয়, আরো অনেক বেশি কমেছে। বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর শেখ হাসিনা এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'আমরা দুর্নীতি অনেক কমিয়েছি। টিআইবি যদি একটু দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টিয়ে প্রতিবেদন করত, তাহলে দেখা যেত দেশে দুর্নীতি
এক ভাগ নয়, আরো অনেক বেশি কমেছে।'
প্রধানমন্ত্রী হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের উদাহরণ টেনে বলেন, 'আমাদের সরকারের সময় যতবার নির্বাচন হয়েছে, তা অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হবিগঞ্জের আসনটি ১৯৭৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগ পেয়ে আসছে। কিন্তু আমাদের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও উপনির্বাচনে আসনটি আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। আমরা দেশের মানুষের জন্য ভোট ও ভাতের রাজনীতি করি।'
দুর্নীতির ধারণাসূচকে বাংলাদেশ গত বছরের তুলনায় এ বছর এক ধাপ কমেছে বলে গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এতে দেখা যায়, দুর্নীতি পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণাসূচকে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম।
শেখ হাসিনা নাগরিকসমাজের সমালোচনা করে বলেন, 'গণতন্ত্র ও সুশাসন পারস্পরিক ক্রিয়াশীল। একে এগিয়ে নিতে নাগরিকসমাজের ভূমিকা অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের দেশে বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে সুশীলসমাজের সদস্যরা অনেক সময় ব্যক্তি স্বার্থকে বড় করে দেখেন এবং ক্ষমতার লোভে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী মহলের পক্ষে অবস্থান নেন।'
প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'আমরা গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছি। মুক্ত গণমাধ্যমের কল্যাণে আজ অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। তাই অনেকে মনের মাধুরী মিশিয়ে এমন লেখা লেখেন যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। যদি কেউ লেখালেখি করে গণতন্ত্র ধ্বংসের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেন, তবে আমি এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করব। আমার অনুরোধ থাকবে, স্বপ্নের জগতে বিচরণ না করে বাস্তবতা বিবেচনা করে পরামর্শ দিন। জনগণের জন্য কল্যাণকর সব পরামর্শই আমরা সাদরে গ্রহণ করব।'
শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পর্কে বলেন, 'গণতন্ত্রের মূল কথা হচ্ছে জনগণের শাসন। আমরা জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।' আগের মেয়াদে তাঁর সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, '১৯৯৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি অনুযায়ী প্রায় দুই হাজার সৈন্য আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু বিরোধী দল এটি নিয়েও আন্দোলন করেছে। আমরা শুধু বাংলাদেশের নয়, উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।'
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেন ভিসাওয়া ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. রামজি সিং, আইসিএসপির সভাপতি অধ্যাপক ড. বাসাভরাজি পি সিদ্দেশরামা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পেশ করেন বাংলাদেশ বিশ্ব্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএসপির স্থানীয় সেক্রেটারি ড. ফেরদৌসি বেগম। এতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল মোমেন।
অনুষ্ঠানে ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন, মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামছুল হক টুকু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

No comments

Powered by Blogger.