কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসমাবেশে সন্তু লারমা-মার্চের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পাহাড় অশান্ত হয়ে উঠবে

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে পাহাড় ফের অশান্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। একই সঙ্গে ১৯ দফা বাস্তবায়নে মার্চ পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সন্তু লারমা বলেন, 'পার্বত্য


চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ১৪ বছর পার হলেও চুক্তি বাস্তবায়নে এখনও অচলাবস্থা রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক নয়।' তিনি বলেন, 'চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগণের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হলেও কোনো সরকার আমাদের কথা শোনেনি। চুক্তি বাস্তবায়ন দ্রুত না হলে পাহাড় আবার অশান্ত হয়ে উঠবে। চুক্তি বাস্তবায়নে বাধাগুলো অপসারণের ক্ষেত্রে পাহাড়ি জনগণ আর শান্ত থাকবে না।' এদিকে বিভিন্ন সংগঠন গতকাল শান্তিচুক্তির ১৪ বছর উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। তিন পার্বত্য জেলায় পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচি পালন করা হয়।
গণসমাবেশে সন্তু লারমা বলেন, 'চুক্তির পর পাহাড়িদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের যে প্রত্যয় করা হয়েছিল তা শুধু মুখের কথা এবং কাগজ-কলমের লেখায় পরিণত হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নে পাহাড়ি জনগণ যখন যা প্রয়োজন তা-ই করবে। মার্চের মধ্যে ১৯ দফা বাস্তবায়ন না হলে মার্চের শেষাংশে মহাসমাবেশ করে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।' ৩০ নভেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা
বলেছিলেন, ১৯ দফার ১২টি বাস্তবায়নে মাত্র ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে।
গণসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে সন্তু লারমা বলেন, 'চুক্তির আগে বিশেষ দূতের মাধ্যমে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আপনি ভুলে গেছেন। দূতের মাধ্যমে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আপনার সরকার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সকল জাতিসত্তার অধিকার প্রদানে সচেষ্ট।' প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান জেএসএস নেতা।
আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম, নারীনেত্রী রোকেয়া কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডালেম চন্দ্র বর্মণ, সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, সিপিবির সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আদিবাসী নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেন, শামসুল হুদা প্রমুখ।
রাশেদ খান মেনন বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে জুম্ম জাতি একেবারে আশাহীন। তিনি বলেন, সব দলিলপত্রে তারা আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃত। সংশোধনীর মাধ্যমে '৭২ সালের ভুল সংশোধন করতে চেয়েছিলাম। তা হয়নি। আদিবাসীদের স্বীকৃতি না দিয়ে যে ভুল করেছিলাম, সংশোধনীতে তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে তার চেয়ে বড় ভুল করা হয়েছে। সৈয়দ আবুল মকসুদ তিন মাসের মধ্যে চুক্তির বেশিরভাগ অংশ বাস্তবায়ন করা না হলে অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বাঙালিদের নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করা হবে বলে ঘোষণা দেন। সাদেকা হালিম বলেন, আদিবাসীদের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বলা অপমানজনক। রানা দাশগুপ্ত আওয়ামী লীগের বিগত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সকল জাতিসত্তার অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

No comments

Powered by Blogger.