নারায়ণগঞ্জ আ'লীগের দায়িত্ব নেবেন কে? by এমএ খান মিঠু,

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এসএম আকরাম তার সব দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের পর জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আকরামের পর কে হতে যাচ্ছেন দলের জেলা কমিটির কর্ণধার_ এ নিয়ে সরব আলোচনা হচ্ছে দলের ভেতরে-বাইরে। জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব কে নেবেন_ সে প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। আকরামের পদত্যাগে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা দুঃখ পেলেও তার বিপরীত বলয়ের নেতাকর্মীদের মতে, তার পদত্যাগ একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কারণ সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি দলে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।


দল থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করে নিজের সম্মান বাঁচিয়েছেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অবশ্য এ পদত্যাগকে দেখছে তার দুর্বল রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। এসএম আকরামের পদত্যাগের পক্ষে-বিপক্ষে যত কথাই হোক না কেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, তার
পদত্যাগের মধ্য দিয়ে জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতি অভিভাবক বা নেতৃত্বশূন্যতায় পড়বে। দলের এ শীর্ষ পদটি নিয়ে এখন দেখা দেবে টানাটানি। দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কেউ একজন এ পদে আসুক_ এটাই চান দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির পর জেলার সভানেত্রী নাজমা রহমান নারায়ণগঞ্জবিমুখ হয়ে পড়েন। সাধারণ সম্পাদক শামীম ওসমান নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিরাপত্তার কারণে দেশ ছাড়েন। এ অবস্থায় দলের হাল ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয় এসএম আকরামের ওপর। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এসএম আকরাম নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। ওইসময় তার পাশে ছিলেন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, পৌর মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জিএম আরাফাতসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময় শামীম ওসমানপন্থি নেতাকর্মীরা এসএম আকরামের নেতৃত্বে আন্দোলনে যোগ দেন।
এসএম আকরামের পদত্যাগের ব্যাপারে তার অনুসারী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ পদত্যাগে সবাই কষ্ট পেয়েছি। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।
এদিকে এর বিপরীত বক্তব্য পাওয়া গেছে শামীম ওসমানপন্থি হিসেবে পরিচিত শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহার কাছ থেকে। তার মতে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ করায় দল থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই আকরাম নিজ থেকে সরে গেছেন। তার সরে যাওয়ায় দলে কোনো নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দেবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে খোকন সাহা বলেন, প্রশ্নই আসে না। তার পরিবর্তে যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করবেন।
শামীম বলয়ের হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি তার একান্তই ব্যক্তিগত। আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এতে দলে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হবে না বলে তিনি মনে করেন।
জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির জানান, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থেকেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ দলের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় আলোচিত হবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে তার পদত্যাগ গৃহীত হবে কি-না।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম আরাফাত মনে করেন, এটি এসএম আকরামের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি সাফায়েত হোসেন সানি বলেন, প্রকৃতপক্ষে নিজে কিছু পাওয়ার বা হওয়ার জন্য রাজনীতি করা উচিত নয়। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করার মানসিকতা থাকতে হবে।
পদত্যাগকে প্রধান বিরোধী দল দেখছে এসএম আকরামের দুর্বল নেতৃত্ব হিসেবে। নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, আকরামের পদত্যাগ তার দুর্বল নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ। কারণ নেতা যিনি হবেন তার নিজস্ব কিছু ক্ষমতা থাকতে হবে। সেটি তিনি যথাসময়ে ব্যবহার করবেন।

No comments

Powered by Blogger.