অ্যাসাঞ্জকে সুইডেনে হস্তান্তরের রায়

যৌন হয়রানির মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাড়া জাগানো বিকল্প ধারার গণমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে সুইডেনে পাঠানোর রায় দিয়েছেন লন্ডন হাইকোর্ট। তাঁকে সুইডেনের কাছে হস্তান্তরে এর আগে যুক্তরাজ্যের নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন অ্যাসাঞ্জ। গতকালবুধবার হাইকোর্ট ওই আপিল আবেদন নাকচ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখলেন। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে অ্যাসাঞ্জের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ থাকছে। এ জন্য তিনি দুই সপ্তাহ সময় পাবেন।গত বছর উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন কূটনৈতিক বার্তা ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দেয়।


ওই ঘটনার পর উইকিলিকসের সুইডিশ দুজন সাবেক স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুইডিশ সরকার ৪০ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর যুক্তরাজ্যের পুলিশ সে দেশে থাকা অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করে। সুইডেন সরকার অ্যাসাঞ্জকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ জানায়।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের এক বিচারক সুইডেনের অনুরোধ অনুমোদন করে অ্যাসাঞ্জকে সুইডেনের কাছে হস্তান্তরের আদেশ জারি করেন। অ্যাসাঞ্জ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। এর স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন তিনি একজন বিচারক, কোনো আদালত নন। তবে আদালত তাঁর এ যুক্তি নাকচ করে বলেছেন, এটি সুইডেনের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার বিষয়।
আদালতে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী দাবি করেন, সুইডেনের হস্তান্তর দাবি ত্রুটিযুক্ত ও ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্য, সুইডেন ও গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেন অ্যাসাঞ্জ। অ্যাসাঞ্জ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নজরবন্দি রয়েছেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স অনলাইন।

No comments

Powered by Blogger.