বিতর্কিত পেনাল্টিতে হারল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছিল তার স্বাভাবিক খেলা। মাতোয়ারা হয়েছিল দর্শকরা। কিন্তু স্বাগতিকদের আনন্দ মাটি করে দিলেন রেফারি সুলেইমান জাবের। বিতর্কিত পেনাল্টি আর কার্ডের ফোয়ারা ছিটিয়ে কেড়ে নিলেন ম্যাচের সৌন্দর্য। তারপরও হতোদ্যম হয়নি স্বাগতিকরা, ১০ জন নিয়ে ওমানের বিপক্ষে গোলের সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত হেরেছে ওই বিতর্কিত পেনাল্টি গোলে।ম্যাচের শুরু থেকেই যেন অন্য বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচে ইরাক ও সৌদি আরবে বিধ্বস্ত দলটি যে এভাবে জেগে উঠতে পারে, সেটা ছিল অকল্পনীয় ব্যাপার।


তাই কিন্তু হয়েছে, পাসিং, স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী খেলায় স্পষ্ট হয়ে উঠে তাদের সম্ভাবনা। ৯ মিনিটে মালেকের শটেই ভ্যাবচ্যাকা খেয়ে যায় ওমান, তাদের গোলরক্ষক কোনোরকমে ফিস্ট করে সে যাত্রায় রক্ষা করেন। কিন্তু ২০ মিনিটে হঠাৎ খেলার ধারার বিপরীতে বেজে উঠে জর্ডারের রেফারির বাঁশি। পেনাল্টি! কিন্তু বাংলাদেশের কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কির দাবি, 'ওটা মোটেও পেনাল্টি ছিল না। ওদের ফরোয়ার্ডকে ফাউল করেনি রাখিন।' দর্শকরাও সেরকম দেখল, তাই সবিস্ময়ে তারা চিৎকার করে উঠে। যাই হোক হাতেম খামিশের গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়ার বড় আরেকটি কারণ হলো রেফারি। বাংলাদেশের কোচের অভিযোগ, 'আজ (কাল) বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শুধু ওমানই ছিল না, রেফারিরাও ছিল। আমাদের ছেলেরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে কিন্তু তাদের খেলার সুযোগই দিল না রেফারি।' এই রেফারির একরোখা সিদ্ধান্তের বলি ইলিয়েভস্কি নিজেও, গোলরক্ষক লিটনের বিপক্ষে ফাউল কেন দেওয়া হলো সেটা জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে বিপদে পড়েছেন তিনি। এ জন্য ৪৮ মিনিটে বাংলাদেশের কোচকে ডাগ আউট ছেড়ে বাইরে চলে যেতে হয়।
৫০ মিনিটে এই রেফারি আবার পেনাল্টির বাঁশি বাজান মাসুদ রানাকে লাল কার্ড দেখিয়ে। এই পেনাল্টিতে কোনো দোষ ছিল না কিন্তু ওই হাতেম খামিশের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে গোলরক্ষক লিটন স্বাগতিকদের অনুপ্রাণিত করেন। তারপর ১০ জন নিয়েও তারা লড়েছে, সজীব-মালেক-শাহেদরা সম্ভাবনা জাগিয়েছেন কিন্তু শেষপর্যন্ত গোল শোধ করতে পারেনি। পরে ৭৪ মিনিটে ওদেরও মাহমুদও লাল কার্ড দেখে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ লাল কার্ডের রেকর্ড খাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। তারা এই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়েই শেষ করেছে, তাদের পেছনে বাংলাদেশের অবস্থান।
প্রথম ম্যাচে ইরাক ৩-২ গোলে হারিয়েছে সৌদি আরবকে। তারপরও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠে আনন্দে উন্মাতাল হয়েছে ইরাকিরা। পাতাকা নিয়ে নেচে-গেয়ে গান করেছে সদলবলে। সৌদি আরব জয়ের আনন্দ এমনই তীব্র ইরাকিদের কাছে। ম্যাচের ৯ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায় মোহাম্মদ জব্বারের গোলে। মিনিট পাঁচেক পরেই সেই গোল শোধ করেন সৌদি আরবের সালেহ। ম্যাচে সমতা, তেমনি আক্রমণেও সমতা_এক দল আক্রমণে গেলে প্রতিপক্ষ কাউন্টার অ্যাটাকে দিয়েছে তার জবাব। ৩৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দাউদ ইসমাইল গোল করে এগিয়ে নেন ইরাককে। সৌদি ডিফেন্ডার নাকলি পেনাল্টির বিপদ ডেকে এনেছিলেন হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই সেই গোল শোধ হয়ে যায় সৌদি আবদুল্লাহর হেডে। দ্বিতীয়ার্ধে যথারীতি এগিয়ে যায় ইরাক ৫৭ মিনিটে জব্বারের দ্বিতীয় গোলে। এবারো সৌদি আরব অনেক চেষ্টা করেছে, সুযোগও তৈরি করেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেনি গোল শোধ করতে। ওই একটি গোল দিয়েই ফয়সালা হয়ে গেল, গ্রুপের সেরা ইরাক।

No comments

Powered by Blogger.