শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান-সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি হোক

স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরিসহ যে কোনো ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুদান দিলে আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না এবং এ অনুদানের ওপর দাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আয়কর দিতে হবে না। 'শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সহায়তা প্রদান নীতিমালা-২০১১'-এর খসড়ায় এ ধরনের বিধান রাখা হচ্ছে। শুক্রবার সমকালে 'শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না' শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর প্রণীত এ খসড়া মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।


খসড়া নীতিমালায় অনুদান নিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তহবিল গঠন ও ব্যবস্থাপনা, হিসাব ও নিরীক্ষা, আয়কর রেয়াতসহ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা রয়েছে। ব্যক্তি বা অন্য যে কোনো বেসরকারি উৎস থেকে অনুদান গ্রহণ করা যাবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা যায়। অতীতে দানশীল ও বিদ্যোৎসাহীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনায় আর্থিক ও অন্যান্যভাবে সহায়তা প্রদান করেছেন। অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষকদের বেতন প্রদানসহ দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহেও এ ধরনের সহায়তা মিলেছে। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারের ভূমিকা বিপুলভাবে বেড়েছে। প্রতি বছর জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে রাখা হয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার প্রসারে এর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু শিক্ষা খাতের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেসরকারি অনুদান বাড়াতে প্রণোদনা দেওয়া হলে অনেক প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে। এ জন্য সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি করা চাই। তবে তেলে মাথায় তেল দেওয়া যেন না হয় তার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কে কোথায় অনুদান দেবে, সেটা হয়তো আগেভাগে ঠিক করে দেওয়া যাবে না। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুদান দেওয়া হলে তার জন্য বাড়তি কিছু সুবিধা সরকার দিতেই পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দ্রুত এর বাস্তবায়ন হোক, এটাই কাম্য। তহবিল ব্যবস্থাপনাতেও চাই স্বচ্ছতা এবং এ জন্য স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে পরিবর্তন জরুরি।
 

No comments

Powered by Blogger.