রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাছে বিপিসির দায় ৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা by আবুল কাশেম

তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পুঞ্জীভূত দায়ের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক ওভার ড্রাফট (ওডি) ও পেমেন্ট এগেইনস্ট ডকুমেন্ট (পিএডি) বাবদ বিপিসিকে দুই হাজার ২১৪ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক এক হাজার ৮১৩ কোটি টাকা ও অগ্রণী ব্যাংক এক হাজার ৭০৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।


বিপিসির ভর্তুকি সমন্বয় বাবদ ২০১০-১১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে চার হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে ওই অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ও জানুয়ারি-মার্চ সময়ে দুই হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। গত অর্থবছরে বিপিসির মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়ায় আট হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। ফলে সরকারের দেওয়া ঋণের পরও বিপিসির ঘাটতি থেকে যায় চার হাজার ১৯৮ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিপিসির ভর্তুকি সমন্বয় বাবদ তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেখান থেকে এপ্রিল মাসে লোকসান সমন্বয় বাবদ বিপিসিকে এক হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। ফলে আগের অর্থবছরের বকেয়া ঋণের পরিমাণ দুই হাজার ৪০৭ কোটি টাকায় নেমে আসে। গত জুলাইয়ে বিপিসি ভর্তুকি সমন্বয়ের জন্য এক হাজার ৮৯ কোটি টাকা দাবি করলেও বরাদ্দ পেয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে জনতা ব্যাংকের অপরিশোধিত আসল পাওনা দুই কোটি ৬০ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকের এক কোটি ৫০ লাখ ও রূপালী ব্যাংকের ২০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ পরিশোধে পাঁচ বছরমেয়াদি বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বন্ডের বিপরীতে ঋণের সুদের হার হবে ৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, অর্থ বিভাগের অধীন চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ বাবদ মোট দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। সেখান থেকে ইতিমধ্যেই দুই হাজার ৩৮৯ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.