রংপুরে মুক্তিপণ না পেয়ে স্কুলছাত্র হত্যা

চার লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে না পাওয়ায় রংপুরের সাতগাড়ার মর্নিং গ্লোরি চিলড্রেন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মেরাজ আহমেদ হিমেলকে (৯) অপহরণের পর হত্যা করে তাদেরই ভাড়াটিয়া মানিক মিয়া (২২)। গত শুক্রবার তাকে অপহরণ করা হয়। এর দুই দিন পর রবিবার নগরীর সাতগাড়ার খলিফাটারী গ্রামে মানিকের ঘরের পাশের বালুর ডিবিতে তার লাশ পাওয়া যায়।


ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল হিমেলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মানিকের আত্মীয় জলিল (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাতগাড়া খলিফাটারী গ্রামের আবদুল করিম ভোলার একমাত্র ছেলে ও মর্নিং গ্লোরি চিলড্রেন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মেরাজ আহমেদ হিমেল গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় ভাড়াটিয়া মানিক হিমেলের বাবা ভোলাকে মোবাইল ফোনে জানায় হিমেলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
হিমেলের বাবা ভোলা জানান, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর তাঁর মোবাইল ফোনে ০১৯৪২৬৪৪৯২৮ নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। অন্য প্রান্ত থেকে নাম-পরিচয় গোপন রেখে তাঁকে জানানো হয় যে হিমেল ঢাকায় আছে, তাকে পেতে হলে দ্রুত চার লাখ টাকা নিয়ে ঢাকায় আসেন। তিনি অপহরণকারীদের বলেন, 'আমি তো গরিব মানুষ, এত টাকা দিতে পারব না।' এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ কেটে দেয় ওই যুবক। হিমেলের বাবা আরো জানান, এক বছর আগে তাঁর মা রহিমা বেগম অবসরে গেলে প্রায় ছয় লাখ টাকা পান। ওই টাকার জন্য তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। হিমেলের মা শাম্মি আখতার মেরি জানান, ভাড়াটিয়া মানিক সম্পর্কে তাঁর ফুফুশাশুড়ির ছেলে জলিলের ভাগ্নে। তাদের বাড়ি নওগাঁর পার বোয়ালিয়ায়। এখানে ভাড়া থেকে সে ভ্রাম্যমাণ চাপাতির ব্যবসা করত।
হিমেলের বড় আব্বা আবদুর রহিম বাবু জানান, গত রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মানিকের ঘরের পাশে বালুর ঢিবি উঁচু দেখে তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সন্দেহ হয়। তখন তাঁরা বালু সরাতে গেলে মানিক ও তার স্ত্রী বৃষ্টি বেগম জানায়, তার চার মাসের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বালুর নিচে পুঁতে রেখেছে। এর কিছু সময় পর মানিক ও বৃষ্টি কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তখন সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয় এবং বালু সরিয়ে তাঁরা হিমেলের মৃতদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মর্নিং গ্লোরি স্কুলের অধ্যক্ষ রেজিনা সাফরিন জানান, হিমেল ছাত্র হিসেবে মেধাবী ছিল। এ বছর বৃত্তি পেয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) পৃথ্বীশ কুমার সরকার জানান, মানিকই যে হিমেলকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি জানান, হিমেলের দাদির পেনশনের টাকার লোভেই অপরিপক্ব বুদ্ধিতে ভাড়াটিয়া মানিক এ কাজ করে থাকতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.