যোগ্যতমকেই আইসিসিতে চান সবাই

দানটা এবার বাংলাদেশকেই ছেড়ে দেওয়া উচিত! যেনতেন কেউ নন, দাবিটা জানিয়েছেন রোটেশন পলিসি অনুযায়ী পাকিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই একবার আইসিসি সভাপতির চেয়ারে বসা এহসান মানি। ২০০৩-২০০৬ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা এ চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট অবশ্য শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে। বাংলাদেশের কাছ থেকে কিছু বিষয়ে নিশ্চয়তা আদায় করে নেওয়ার পরামর্শই তিনি দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি)। এর মধ্যে


অন্যতম পাকিস্তান সফরে গিয়ে সেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে নেওয়ার নিশ্চয়তা।
রোটেশন অনুযায়ী এবার আইসিসির সহসভাপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার পালা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। পাকিস্তান দাবি ছেড়ে দিলে বাংলাদেশের জন্য কাজটা আরো সহজ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ২০১৫ সালে আইসিসির সভাপতি হিসেবে দেখা যাবে একজন বাংলাদেশিকে। সে পথ সুগম করে দেওয়ার আগে পাকিস্তান তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে নেবে। তবে কোনো কারণে দুই পক্ষ সমঝোতায় পেঁৗছাতে না পারলে পিসিবিও সহসভাপতি পদে একজনকে মনোনয়ন দেবে। সে রকম কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে মনোনীত হতে যাওয়া প্রার্থী যেন 'আউটস্ট্যান্ডিং' হন, সে দাবিও 'দ্য এঙ্প্রেস ট্রিবিউন'-এর মাধ্যমে জানিয়ে রেখেছেন মানি।
মানে প্রার্থীকে হতে হবে দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ক্রিকেট জ্ঞানের গভীরতা থাকতে হবে। কথাবার্তায় হতে হবে গোছানো। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে হতে হবে পারদর্শী। 'আউটস্ট্যান্ডিং' বলতে এ সবই বোঝায়। বাংলাদেশ থেকেও আইসিসির সহসভাপতি পদে তেমন কাউকেই মনোনীত করার দাবিও উঠছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ পদের জন্য একজনকে মনোনীত করতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। যদিও সিংহ ভাগেরই অনুমান যে শেষ সিদ্ধান্তটা আসবে আরো ওপর থেকেই। বিসিবির সাবেক সভাপতি আলী আসগার লবী যেমন বলছেন, 'কে মনোনীত হবেন, সেটা অনেকখানি নির্ভর করবে সরকারের ওপর।'
সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও বিসিবির বর্তমান সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল ইতিমধ্যেই তাঁর আগ্রহের কথা ঘটা করে জানান দিয়েছেন। তবে তিনিই মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন, এটাও নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। কেননা বিসিবির সাবেক সভাপতি এবং সরকারি দলের আরেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর নামও এসে যাচ্ছে আলোচনায়। ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক দলেই নড়বড়ে হয়ে যাওয়া অবস্থানটা এখন তিনি অনেকখানি পুনরুদ্ধার করেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রের খবর। এ জন্য দৌড়ে তিনিও বেশ ভালোভাবেই আছেন বলে জানা গেছে। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বলার উপায় নেই যে মনোনয়ন পাচ্ছেন কে।
এর আগে আলোচনায় অবশ্য শামিল হচ্ছেন অনেকেই। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ মন্তব্য করছেন নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে। সাবেক বোর্ড সভাপতি লবী যেমন সাবের ও কামালকে মূল্যায়ন করেছেন এভাবে, 'সাবের সাহেব বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তা ছাড়া ওনার পিআরও বেশ ভালো। আমি বিসিবি সভাপতি থাকাকালীন আইসিসির বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে তাঁকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে দেখেছি। তবে তাঁর মতো কামাল সাহেবও যোগ্য। যোগ্য না হলে তো আর আইসিসি তাঁকে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান বানায়নি। আমি বলব দুজনেই ফিট।'
লবীর মতো দুই মনোনয়ন প্রার্থীকেই 'উপযুক্ত' বলে মনে হচ্ছে বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই করিমেরও। একই রকম মত বিসিবির আরেক সাবেক সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) সিনা ইবনে জামালীর, 'ব্যক্তিত্বের চেয়ে অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ লোক হলে তাঁর কাজের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতাও থাকে। যে দুজনের কথা শোনা যাচ্ছে, তারা দুজনেই অভিজ্ঞ।' তবে এমন নয় যে সবাই বিতর্ক এড়াতে চেয়েছেন। প্রত্যক্ষভাবে হোক কিংবা পরোক্ষে, নিজের পছন্দের কথা জানাতে গিয়ে দ্বিধাহীনও আছেন কয়েকজন। এঁদের অন্যতম বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রইসউদ্দিন আহমেদ বলছেন, 'এমন একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত যিনি অনেক দিন ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ যাঁর বেশি। যিনি বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস আনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। অতীতে যিনি ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছেন। আমার কথা থেকেই আপনারা সহজে বুঝে নিতে পারেন যে কার কথা বলছি।' রইসউদ্দিন নামটা উহ্য রাখলেও বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা সরাসরি বলেই দিচ্ছেন, 'সাবের হোসেন চৌধুরীরই মনোনয়ন পাওয়া উচিত। তাঁর সময়েই আমরা টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছি। তা ছাড়া খেলাটার প্রতি দরদ ও তাঁর ক্রিকেট প্রজ্ঞাও প্রশ্নের ঊধর্ে্ব। অন্যদিকে বিসিবি সভাপতি কামাল সাহেব ইতিমধ্যে আইসিসির বৈঠকের খবর বাইরে বলে দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন একবার। লর্ডসের ড্রেসিংরুমেও তাঁকে অনেকক্ষণ বসে থাকতে দেখেছি। একজন প্রেসিডেন্টকে ঠিক এভাবে মানায় না।'
আইসিসির সহসভাপতি পদের জন্য কে সবচেয়ে বেশি মানানসই, সে প্রশ্নের উত্তর পেতে অবশ্য অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে! ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ আসনে প্রথমবার বসতে পারার স্বপ্ন অনেকেই দেখবেন। তবে মনোনয়নটা হবে সরকারের উচ্চমহল থেকেই। সবার প্রত্যাশা কাউকে সম্মানিত করার পরিবর্তে সরকার যেন দেশের সম্মানের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে। পক্ষ-বিপক্ষ সবার দাবি এটাই।

অদূর ভবিষ্যতে আইসিসিকে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশেরই কেউ! আর বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষপদে বসার এ লড়াইও শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। যেখানে বিসিবির বর্তমান সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের সঙ্গে জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর নামও। বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পেছনে যাঁর অবদানের কথা সবাই স্বীকার করেন একবাক্যে। তবে কামালও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি এবং আইসিসির ফিন্যান্স কমিটির প্রধান হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে রেখেছেন।

No comments

Powered by Blogger.