সশস্ত্র বাহিনী জনগণের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে আস্থা অর্জন করেছে : প্রধানমন্ত্রী-ল্যাপটপ পেলেন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরাধিকারীরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিভিন্ন সেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী আজ জনগণের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে আস্থা অর্জন করেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার তৎপরতা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সংকটে সশস্ত্র বাহিনী দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।গতকাল ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, সশস্ত্র


বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা, উৎকর্ষ ও মনোবল বৃদ্ধির জন্য গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ডের (বীরত্ব পুরস্কার) পাশপাশি নতুন 'শান্তিকালীন মেডেল' প্রবর্তন বিবেচনাধীন। এর সঙ্গে সদস্যদের বর্ধিত হারে এককালীন অনুদান ও মাসিক ভাতা প্রবর্তনের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, অর্থের জোগান নিশ্চিত হলে এটা কার্যকর করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সশস্ত্র বহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ ছাড়া দেশের জন্য একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনে বঙ্গবন্ধুর এবং নিজ নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।
বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিদ্রোহের বিচারকাজ ত্বরান্বিত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সেনাকুঞ্জের এ অনুষ্ঠানের আগে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে আ@ে@@@াৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. জিল্লুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে পৃথকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল মুবীন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল জহির উদ্দিন আহমেদ এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শাহ মো. জিয়াউর রহমান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। তিনি তাঁদের হাতে সম্মানী চেক এবং উপহার হিসেবে দেশে তৈরি দোয়েল ল্যাপটপ কম্পিউটার তুলে দেন। সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, জাতীয় খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপি মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর নিকটাত্মীয়সহ প্রায় ৬০ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীরা যোগ দেন। এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল মুবীন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল জহির উদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শাহ মো. জিয়াউর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল ওয়াদুদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ উজ জামান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল ওয়াদুদ স্বাগত ভাষণ দেন।
এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে গতকাল নৌবাহিনী প্রধান নৌবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সদস্য এবং তাঁদের পরিবারবর্গের সম্মানার্থে সংবর্ধনার আয়োজন করেন। সেনাবাহিনী প্রধান এবং বিমানবাহিনী প্রধান নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারবর্গকে আজ মঙ্গলবার সংবর্ধনা দেবেন।
দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌজাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সাভার, বগুড়া, চট্টগ্রাম, ঘাটাইল, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর ও রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে এবং খুলনা নৌঘাঁটিতে সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১১ উপলক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.