সংশয়ের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে শেয়ারবাজারে

রকারের তরফে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসের প্রভাবে আগের দিনই টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে এসেছিল শেয়ারবাজার। বুধবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দফায় দফায় বৈঠক ও গৃহীত পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে গতকালের শেয়ারবাজারে। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই চাঙ্গা হয়ে ওঠে শেয়ারবাজার। দিন শেষে এই প্রভাব বজায় থেকে ২০৮.৭৪ পয়েন্ট বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শেষ হয় লেনদেন। তবে টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে গতকালের এই বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মনের শঙ্কা দূর করতে পারেনি।


তাই তো দুপুর ১২টা পাঁচ মিনিটের দিকে সূচক ২৮৬ পয়েন্ট বেড়ে যায় তখনো বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিলেন তাঁরা। দিনভরই ডিএসই ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। এ ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দরপতনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিজেদের পোর্টফোলিও নিয়ে হাজির হন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তথ্য তুলে ধরেন। অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তা তাঁর পোর্টফোলিও দেখিয়ে বলেন, ৫৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করার পর তাঁর রয়েছে আড়াই লাখ টাকা। তাই এক দিনের সূচক বৃদ্ধিতে তাঁর মধ্যে কোনো সান্ত্বনা নেই।
ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, একদিনে হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে আশ্বস্ত হওয়ার কিছু নেই। তা ছাড়া সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ বাড়েনি। এর মানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখনো হাত গুটিয়ে রয়েছেন। এটা কোনো স্বাভাবিক লক্ষণ নয়। কৃত্রিমভাবে বাজার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা চাই স্থিতিশীল বাজার। এসইসির সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করবে রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংক। যতক্ষণ পর্যন্ত ওই দুটি সংস্থার পক্ষ থেকে এসব সুপারিশের বাস্তবায়ন করা না হবে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সংগঠনের সভাপতি মিজান রশীদ চৌধুরী বলেন, বাজারবান্ধব পদক্ষেপের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ঘোষণা ছাড়া আমরা আর কাউকে বিশ্বাস করি না। এর আগে বহুবার বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের পক্ষ থেকে অনেক কথা বলা হয়েছে; কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি।
বুধবার শেয়ারবাজার নিয়ে এসইসি বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব বৈঠকে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে এসইসি চেয়ারম্যান জানান, আগের মতোই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করমুক্ত থাকবে। ব্রোকারেজ হাউসের কমিশনও কমানো হবে। আর ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মার্চেন্ট ব্যাংকের ঋণও মওকুফ করা যাবে। এ ছাড়া আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারে আরো বিনিয়োগ করতে পারবে। মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে শেয়ারবাজারে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে এসইসি চেয়ারম্যানের আলোচনার ধারাবাহিকতায় বুধবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২০৮.৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৫৬৮.৩৬ পয়েন্টে স্থির হয়েছে। সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। এমনকি দুপুর ১২টা পাঁচ মিনিটের দিকে সূচক ২৮৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। ডিএসইতে মোট ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৫টিরই দাম বেড়েছে। কমেছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এঙ্চেঞ্জটিতে গতকাল ৩৬৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৫১ কোটি টাকা বেশি। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল_দুই লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ কোটি ৭৯ লাখ তিন হাজার ১৮৩ টাকা।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো_লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এনবিএল, বেঙ্মিকো, তিতাস গ্যাস, সামিট পাওয়ার, কেয়া কসমেটিকস, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবিএল, এম আই সিমেন্ট ও বেঙ্মিকো ফার্মা। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে গতকালের ১০টি কম্পানি হলো_গ্রামীণ ১, আইএসএন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, গ্রামীণ স্কিম ২, বিডি ওয়েল্ডিং, মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স ও আইসিবি তৃতীয় এনআরবি। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষ ১০টি কম্পানি হলো_আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, মুন্নু জুটেঙ্, এসিআই জিরো কুপন বন্ড, বাংলাদেশ অঙ্েিজন, চিটাগাং ভেজিটেবল, রহিম টেঙ্টাইল, রেকিট বেঙ্কিজার ও রহিমা ফুড। চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জের (সিএসই) সূচক ৩৩৩.৪৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৯,৯৫৫.৬৫ পয়েন্টে। স্টক এঙ্চেঞ্জটিতে গতকাল ৬২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ছয় কোটি টাকা বেশি। সিএসইতে গতকাল ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৭৬টিরই দাম বেড়েছে, কমেছে ১২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

No comments

Powered by Blogger.