বাংলাদেশেও ওয়ানডেকে ছাড়িয়ে টোয়েন্টি টোয়েন্টি!

দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখানকার দর্শকদের কাছে চোখ সওয়া ব্যাপার হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক টোয়েন্টি টোয়েন্টি ম্যাচের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা মোটেও সে রকম নয়। বলা চলে দেশের দর্শকদের কাছে ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটের 'প্রথম' অভিজ্ঞতা হয়ে এল এই সেদিনের বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচই। যদিও এ ধরনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাংলাদেশে এটিই প্রথম নয়।


২০০৬ সালেও হয়েছিল একটি, তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেটি হয়েছিল সুদূর খুলনায়। সেই সঙ্গে ম্যাচটি টিভিতেও সম্প্রচারিত না হওয়ায় দেখার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের দর্শকদের। সুযোগ আসতেই যে তাঁরা লুফে নেবেন, তা অনুমান করা যাচ্ছিল গত ৩ অক্টোবর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ লাল আর সবুজ দলের টোয়েন্টি টোয়েন্টি ম্যাচ থেকেই। যেদিন গ্যালারি কানায় কানায় ভরিয়ে তুলেছিলেন দর্শকরা। ওই ম্যাচে কোনো দর্শনী ছিল না। কিন্তু টিকিট কেটে মাঠে ঢোকার পালা এল, সেদিনও মিরপুরমুখী ঢল বুঝিয়ে দিল যে আইপিএলসূত্রে টোয়েন্টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে জনপ্রিয়তা এখানেও ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। ১১ অক্টোবর ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্যালারিতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই অথচ স্টেডিয়ামের বাইরে তখনো হাজারো দর্শকের ভিড়। টোয়েন্টি টোয়েন্টি ক্রিকেটকে ঘিরে যে জোয়ার, ওয়ানডে সিরিজ আসতে আসতেই তাতে যেন কিছুটা ভাটার টান লক্ষ করা গেল। হ্যাঁ, কালও গ্যালারি ভরেছে, তবে সেটা সিরিজের একমাত্র টোয়েন্টি টোয়েন্টি ম্যাচের মতো নয় কিছুতেই। প্রেস বঙ্ থেকে গ্যালারির এখানে-সেখানে অনেক শূন্য চেয়ারও চোখে পড়েছে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টিকিট অ্যান্ড সিটিং কমিটির সদস্য সচিব আইনুল ইসলাম কাল দুপুরে বলছিলেন, 'সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। দেখবেন, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় ঠিক গ্যালারি ভরে উঠবে।'
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে দর্শক বেড়েছেও। কিন্তু টোয়েন্টি টোয়েন্টি ম্যাচকে ঘিরে স্টেডিয়ামের বাইরে মানুষের উন্মাদনার ছবিটা উধাও। লম্বা সময় ধরে হওয়াটা দর্শকদের ক্রিকেটমুখী করার পথে একটা বাধা, ইংল্যান্ডে প্রথম টোয়েন্টি টোয়েন্টি ক্রিকেট চালুর ক্ষেত্রে এটাই রেখেছিল মূল ভূমিকা। পরে এ ধারণার আশ্রয় নিয়েছে আরো অনেকে। আইপিএলের সুবাদে টোয়েন্টি টোয়েন্টি এখন বোধহয় ক্রিকেটেরই জনপ্রিয়তম সংস্করণ হওয়ার পথে। যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এখন বাংলাদেশের দর্শকদের মাঝেও। বছর দুয়েক আগে জাতীয় লিগে এক বছরের জন্য ফ্রেঞ্চাইজিভিত্তিক টোয়েন্টি টোয়েন্টি আসর হয়েছিল। সেখানে প্রতিটা ম্যাচেই গ্যালারি উপচে পড়েছে দর্শকে। ধরুন, জাতীয় লিগের দলগুলোকে নিয়েই ফ্রেঞ্চাইজিভিত্তিক ফার্স্ট ক্লাস তথা চার দিনের ম্যাচের আসর বসল। তখন কি আর 'গ্যালারিতে না মেলে ঠাঁই' অবস্থা হবে? অতি বড় আশাবাদীও এত কল্পনাশ্রয়ী হয়ে উঠবেন বলে মনে হয় না। যেখানে টেস্ট ম্যাচেই গ্যালারি ফাঁকা থাকে। ওয়ানডে ম্যাচে অবশ্য দর্শক নিয়ে হাহাকার কখনোই তেমন একটা উচ্চাঙ্গে যায়নি। এবার একটা শঙ্কা অবশ্য ছিল। জিম্বাবুয়ে থেকে চরম ব্যর্থ হয়ে ফেরাতেই সেটা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সিরিজটা টোয়েন্টি টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়াতেই যেন সব শঙ্কা উবে গিয়ে এখন দর্শক ঠাসা গ্যালারির আশা। প্রথম ওয়ানডেতে তা কিছুটা ভরলেও ১১ অক্টোবরের মতো নয়। এখানকার লোকজন আবার টোয়েন্টি টোয়েন্টিরই দর্শক হয়ে গেলেন না তো!

No comments

Powered by Blogger.