অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ- শিশুর জন্য বুকের দুধ

মাত্র পাঁচ-ছয় দশক আগেও বাংলাদেশের (পূর্ব বাংলার) গ্রামে তো বটেই, শহরের মানুষও জানত যে শিশুদের অন্তত ছয়-সাত মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোই যথেষ্ট। ছয় মাস পেরোলে ঘটা করে অন্নপ্রাশন বা ‘মুখেভাত’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো।


দুঃখের বিষয়, সেই ঐতিহ্য হারিয়ে আমরা নাকি বিশ্ব সূচকে নিচের দিকে তিন নম্বর ধাপ, অর্থাৎ লাল রঙের ওপরে হলুদ রঙের ধাপে পড়েছিলাম। সম্প্রতি কিছু উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ এখন নীল রঙের ধাপে উন্নীত হয়েছে। সূচক নম্বর মাত্র ১১০ দশমিক ৫। প্রথম সারিতে, অর্থাৎ সবুজ রঙের ধাপে উঠতে হলে নম্বর পেতে হবে অন্তত ১৩৬।
শিশুবিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ের বুকের প্রথম শাল দুধ থেকে শুরু করে অন্তত ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুরা শুধু মায়ের দুধই খাবে, এমনকি পানি খাওয়ারও দরকার নেই। এতেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ও স্বাস্থ্য-পুষ্টি সবই হয়। কোলের শিশুর জন্য মায়ের দুধই সর্বরোগের মহৌষধ। কিন্তু একশ্রেণীর শিশুখাদ্য ব্যবসায়ী অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। প্রকৃতপক্ষে কোনো গুরুতর অসুস্থতা থাকলে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শেই শিশুদের গুঁড়ো দুধ বা অন্য শিশুখাদ্য দেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট আইন থাকা দরকার। ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সরকার ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করে অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে। শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানো ও সেবাযত্নের সুব্যবস্থার জন্য এর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শিল্প-কারখানা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও যেন এই আইন থাকে, সেটা দেখা দরকার। তা ছাড়া, কর্মক্ষেত্রে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রের ব্যবস্থা ও ক্ষেত্রবিশেষে কাজের সময় শিশুদের খাওয়ানোর জন্য মায়ের দুধ শিশিতে সংরক্ষণের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থার ব্যাপক প্রচলন দরকার।
কিছুদিন আগে আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ চিত্রে একটি তিন বছরের ছেলেকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর দৃশ্য গুরুত্বের সঙ্গে পরিবেশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বুকের দুধ এমনকি এইচআইভি আক্রান্ত কোনো হতভাগা মায়ের শিশুকেও প্রতিরোধ শক্তি দেয়।
বুকের দুধ খাওয়ানোর অনুশীলনে একসময় বাংলাদেশ প্রথম সারিতে ছিল, আবার সেখানে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। এটা গৌরবের কথা।

No comments

Powered by Blogger.