রমজানের পর বিএনপির দুর্বার আন্দোলন-নয়াপল্টনের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতাদের ঘোষণা

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলেছে, রমজানে কোনো কর্মসূচি থাকবে না, ঈদের পর সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। দলের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'রমজানের আগে এটা আমাদের ঘোষিত শেষ কর্মসূচি।


আজকে আমাদের শপথ হোক, রমজানের পর নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। ওই আন্দোলনে তাদের দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।'
গতকাল রবিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎসহ সার-কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গত ১১ জুন নয়াপল্টনের গণসমাবেশ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া মহানগর ও জেলাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের যেসব কর্মসূচি দিয়েছিলেন, গতকালের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে তা শেষ হলো। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের চুক্তি বাতিল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, 'গত দুই দিন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি আমলে দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বাতিল করেছে। আমরা দাবি করছি, দয়া করে বিশ্বব্যাংকের সব চিঠি প্রকাশ করুন। দেশের মানুষ জানে, কেন বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বাতিল করেছে। গোয়েবেলসীয় কায়দায় সত্যকে মিথ্যা কিংবা মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে লাভ হবে না।' ফখরুল বলেন, 'যুদ্ধাপরাধীর বিচার কারা করেনি, কারা যুদ্ধাপরাধীদের মাফ করে দিয়ে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়েছিল, তা দেশের মানুষ জানে। এখন চলমান আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বিরোধী দলের ওপর নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।'
সাড়ে তিন বছরে দ্রব্যমূল্য ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার দ্রব্যমূল্য কমিয়ে আনবে, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম দেবে, সার-কীটনাশকের দাম কমাবে ইত্যাদি লম্বা লম্বা কথা বলেছিল। এখন সাড়ে তিন বছরে সব কিছুর দাম তিন-চার গুণ বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। বিরোধী দলের ওপর সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'সাড়ে সাত হাজার মামলা ক্ষমতাসীনরা তুলে নিয়েছে। আর বিরোধী দলের বিরুদ্ধে পুরনো মামলার পাশাপাশি নতুন করে আরো মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাই এই ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকারকে হটাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।'
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা করার উদ্যোগের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, দুদক সরকারের তল্পিবাহক সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
মহানগর ১৮ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, ড. মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।
জোটের শরিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, হামিদুর রহমান আযাদ, তাসনিম আলম, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, বিজেপির শামীম আল মামুন, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপির ফরিদুজ্জমান ফরহাদ, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া প্রমুখ।

No comments

Powered by Blogger.