৭০০ পেরিয়ে গুলশান এভিনিউ by কামরুজ্জামান মিলু

জানুয়ারি প্রচারিত হলো ডেইলি সোপ 'গুলশান এভিনিউ'র ৭০০তম পর্ব। এ উপলক্ষে শিল্পী-কুশলীদের নিয়ে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু ১০০ বা ২০০ নয়, ক্রমে ক্রমে ৭০০তম পর্ব অতিক্রম করল ডেইলি সোপ 'গুলশান এভিনিউ'। ৪ জানুয়ারি গুলশান-২-এর নাটকটির শুটিং হাউসে ৭০০তম পর্ব প্রচার উপলক্ষে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পথিকের কর্ণধার তুহিন বড়ুয়া ও তারিক আনাম খান। এ নাটকের প্রযোজক তুহিন বড়ুয়ার সেদিন জন্মদিনও ছিল।


একই দিনে নিজের জন্মদিন, অন্যদিকে নিজের প্রযোজিত নাটকটির ৭০০তম পর্ব প্রচার_সব মিলিয়ে বেশ ব্যস্ত ও খোশ মেজাজে ছিলেন তুহিন। বললেন, 'আজকের অনুষ্ঠানে শুধু এ নাটকের শিল্পী ও কলাকুশলীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান, নাটিকা ও শুভেচ্ছা বক্তব্য থাকবে। এ নাটকের প্রযোজক হিসেবে আমার অনুভূতি অসাধারণ। যেহেতু এটি ডেইলি সোপ, তাই আমি চাই এটি আরো এগিয়ে যাক। অন্তত মানুষের নাটক দেখার অভ্যাসটা তৈরি হোক। হিন্দি সিরিয়াল থেকে বাংলা নাটকে দর্শক ফেরানোর চেষ্টায় এ নাটকটি তৈরি করা। আর আমার মনে হয় যে আজ আমরা অনেকখানি সফল।'
এরই মধ্যে ঢোলবাদকরা নাচের তালে তালে ঢোল বাজানো শুরু করলেন। 'গুলশান এভিনিউ'র চিত্রনাট্য ও পরিকল্পক নিমা রহমান বললেন, 'প্রথম দিকে পরিকল্পনা ছিল ৫০০ পর্ব পর্যন্ত নাটকটি হবে। পরে দর্শকদের চাহিদা ও গল্পের কারণেই এত দূর আসা। তা ছাড়া প্রথম দিকে নাটকটি নিয়ে নানা রকম বাধার সম্মুখীন হয়েছি। তবে দর্শকরা এখন ঝকঝকে ছবি দেখতে পছন্দ করে, গ্ল্যামার চায় নাটকে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ এগিয়ে নিয়েছি। এখন দর্শকদের রেসপন্স অনেক ভালো। নাটকটি ১০০০ পর্ব পর্যন্ত করার পরিকল্পনা আছে।'
নাটকের অন্য অভিনেতাদের মধ্যে বন্যা মির্জা, দীপা খন্দকার, তাহমিনা সুলতানা মৌ, তানভীর, রাসেল, রুনা খানসহ প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানের প্রায় শুরুতেই মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করলেন নৃত্যশিল্পী নিসা। দর্শক সারিতে বসা ছিলেন নাটকের পরিচালক সতীর্থ রহমান। তাঁর সঙ্গে নাটকটির বিষয়ে কথা হলে জানান, 'নাটকটি ১৫০-৭০০ পর্ব পর্যন্ত আমি পরিচালনা করছি। এই কাজের বাইরে অন্য কাজ করার চেষ্টাও করিনি। শুটিংয়ের সময় আমার মাথায় সব সময় কাজ করত_নাটকের স্ক্রিন ঝকঝকে ও সুন্দর দেখাতে হবে; সেই সঙ্গে শিল্পী ও কলাকুশলীদের তো বটেই। এ নাটকে শুদ্ধ বাংলায় ও সুন্দর-সাবলীল ভাষায় কথা বলেছেন শিল্পীরা। সব কিছু মিলে দর্শকদের কাছে ভালো সাড়া পেয়েছি বলেই নাটকটি এত দূর পর্যন্ত গড়িয়েছে।'
নিসার পর মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করছিলেন তাহমিনা সুলতানা মৌ ও এ নাটকের অভিনেতা কিবরিয়া তানভীর। নৃত্য শেষ হলে প্রথম পর্ব থেকে অভিনয় করে আসা অভিনেত্রী মৌয়ের কাছে এ নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলাম। মিষ্টি হেসে তিনি বললেন, 'এ নাটকে আমার চরিত্রের নাম রেহানা। প্রথম দিকে পুরোপুরি নেগেটিভ চরিত্র ছিল এটি। এখন গল্পের সঙ্গে সঙ্গে আমার চরিত্রটি অনেকটা পজিটিভ দিকে মোড় নিচ্ছে। দর্শকদের কাছে আমার চরিত্রটি অনেকটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।'
মঞ্চে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিচ্ছিলেন নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেতা ও প্রযোজক তারিক আনাম খান। মঞ্চ থেকে নেমে এলে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বললেন, 'এটি আমাদের টেলিভিশনের ইতিহাসে অবশ্যই একটা বড় ঘটনা। এ নাটকে আমি একজন কেন্দ্রীয় পুরুষের চরিত্রে (সাফকাত চৌধুরী) অভিনয় করেছি। একজন প্রযোজক হিসেবে শুধু নয়, অভিনেতা হিসেবেও খুব আনন্দিত এবং দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। এটি মূলত পারিবারিক নাটক। মহিলা দর্শকরা নাটকটি বেশি দেখেছেন। কারণ তাঁদের জীবনের সুখ-দুঃখ তুলে ধরা হয়েছে এ নাটকে। সাংসারিক জীবনে পরিবারের যেসব দ্বন্দ্ব-সংঘাত হয় তা-ই দেখানো হচ্ছে এ নাটকে। সমাজব্যবস্থা ও সংস্কৃতি পরিপন্থী_এমন কিছুই দেখানো
হচ্ছে না এ নাটকে। ইচ্ছে আছে হাজার পর্ব পর্যন্ত অতিক্রম করার। যত দিন দর্শক
চাইবে তত দিন গুলশান এভিনিউয়ের
প্রচার চলবে।'
'গুলশান এভিনিউ' নাটকটির শিল্পী ও কলাকুশলীদের অংশগ্রহণে নৃত্য, নাটিকা, শুভেচ্ছা বক্তব্য ও সব শেষে দলীয় গান দিয়ে রাত ১১টায় সম্পন্ন হয় গুলশান এভিনিউয়ের ৭০০তম প্রচার পর্বের জমকালো আনুষ্ঠানিকতা।

No comments

Powered by Blogger.