নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই জগন্নাথে আন্দোলন চলছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন দাবি করেছে, অধিকাংশক্লাসওপরীক্ষাঅনুষ্ঠিতহয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে গতকাল সকাল ১০টায় প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।


পরীক্ষা ও ক্লাস যেন না হতে পারে, সে জন্য আন্দোলনকারীরা আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের প্রধান ফটকে দুটি তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সকাল সোয়া ১০টায় সে তালা ভেঙে ফেলেন প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। তবে শিক্ষার্থীরা দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থীরা চলে গেলে গতকালকের মতো আন্দোলন সমাপ্ত করা হয়।
এদিকে, উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বেলা একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের ক্যানটিনে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে উন্নয়ন ফি বাতিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের আয়ে চলাসংক্রান্ত ২৭/৪ ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, অধ্যাপক ও বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ দুই শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষকেরা উন্নয়ন ফি বহাল রাখার বিষয়ে একমত হন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিলের মোট ৯০ ভাগ সরকার থেকে আসে। বাকি ১০ ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকেই ওঠাতে হবে। কিন্তু উন্নয়ন ফি বন্ধ করা হলে বাকি টাকা আসবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় সচল রাখার জন্য উন্নয়ন ফি নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’
সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেসবাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অযৌক্তিক। কারণ, উন্নয়ন ফি নেওয়া বন্ধ করলে সরকার আমাদের বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ করে দেবে। এতে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে।’

No comments

Powered by Blogger.