বিএনপিকেও বদলে যেতে হবে

মকাল জরিপে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে_ সরকারের অনেক কিছু বদলাতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের প্রতিও রয়েছে অনেক বার্তা_ 'তারাও ঠিকভাবে চলছে না।' বিএনপির বিরুদ্ধে বিশেষ করে অভিযোগ, তাদের দলে এখনও হাওয়া ভবনের ভূত। তারা সংসদ বর্জন করছে, হরতাল-ধর্মঘট বর্জনে আগ্রহ নেই। দলে বাড়েনি গণতান্ত্রিক চর্চা। বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের পতনের অন্যতম কারণ ছিল হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক দুর্নীতি। জনগণ সে সময়েই তা


পছন্দ করেনি। তারেক রহমানসহ অনেক বিএনপি নেতা সম্পর্কে যখন দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে থাকে, অনেকেই সেগুলোকে বিশ্বাস করতে থাকেন। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ওয়ান ইলেভেনের পর যখন একের পর এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়, তখন জনগণ মনে করেছে_ সঠিক পথে চলেছে সেনা সমর্থিত সেই সরকার। অনেকের সাজাও হয়। বিএনপি নেতৃত্ব 'হাওয়া ভবন' পরিত্যাগ করলেও তার নেপথ্যের কারিগরদের শুধু যে আঁকড়ে ধরে আছে তাই নয়, তাদেরই সামনে রেখে চলতে চাইছে। জনগণ সেটা বুঝতে পারছে। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ দিয়ে এ ধারণাই দিচ্ছে যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে যাবে।
সমকাল জরিপে প্রশ্ন ছিল, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণে বিএনপি নেতৃত্ব আন্তরিক কি-না, এ প্রশ্নে অর্ধেকের বেশি উত্তরদাতার মনে হয়েছে_ মোটেই আন্তরিক নয়। বিএনপি নেতৃত্ব সরকারের বিরোধিতা করছে এবং তার যৌক্তিকতাও রয়েছে। এ জন্য যেসব কর্মসূচি দিয়েছে তার সঙ্গে নেই জনমতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে হরতাল কতটা গ্রহণযোগ্য, এ প্রশ্নে ৫৬ শতাংশের বেশি মত হচ্ছে_ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, হরতাল-অবরোধে জনদুর্ভোগ বাড়ে, সেটাও রাজনৈতিক এই কর্মসূচির প্রতি বিরূপ মনোভাবের কারণ। জনগণ বিএনপিকে আরেকটি বার্তা দিচ্ছে, সংসদ বর্জনের প্রতি কার্যত কারও সমর্থন নেই। ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা এ প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান সমর্থন করেন না। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এমনকি বিএনপির কট্টর সমর্থকরাও অব্যাহত সংসদ বর্জন সমর্থন করছে না।
বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই_ এটাও জনগণ বুঝতে পারছে। প্রায় ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, প্রধান দলগুলোয় গণতন্ত্র চর্চা বাড়েনি। ওয়ান ইলেভেনের পর এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কিছু চেষ্টা করেছিল। তা অবশ্য ফলপ্রসূ হয়নি। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি তা কার্যত আমলেই নেয়নি।
বিএনপির প্রতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হচ্ছে, দলের অবিসংবাদিত নেতা খালেদা জিয়ার কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের মূল্যায়ন। প্রায় ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, তিনি ভালো করছেন না। মাত্র ৫ শতাংশ বলেছেন, তিনি খুব ভালো করছেন। আর প্রায় ২৬ শতাংশ বলেছেন, ভালো করছেন। [ জরিপ গ্রাফ বিশেষ পৃষ্ঠা ২]

No comments

Powered by Blogger.