প্রতি ঘরের অংশ by সৈয়দ মাহ্‌মুদ জামান

জ সকালে 'বিগ বস'-এর ঘরে ঢুকবেন বিশেষ অতিথি মহেশ ভাট এবং আনুষ্ঠানিকভাবেই সানিকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেবেন তিনি। শুধু 'মার্ডার থ্রি'র জন্যই নয়, বিপাশা বসুর ছেড়ে দেওয়া 'জিসম টু' ছবির জন্যও প্রস্তাব দেবেন মহেশ ভাট। আর সানি রাজি হলেই দিলি্লতে হবে 'জিসম টু' ছবির শুটিং।মহেশ বলেছেন, "সৌন্দর্য আর আবেদনের কারণে দিলি্ল সব সময়ই আমার একটি প্রিয় লোকেশন। পূজাও (ভাট) দিলি্লতে শুটিং করতে আগ্রহী।


তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, 'জিসম টু' ছবির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাজধানীতেই শুটিং করব। দিলি্লর বেশ কিছু জায়গা ইতিমধ্যে ঠিক করে ফেলা হয়েছে। তবে এর মধ্যে বিখ্যাত দিলি্ল বিশ্ববিদ্যালয় থাকছে না।" কেন থাকছে না ঐতিহ্যবাহী এ বিশ্ববিদ্যালয়? মহেশ বলেন, 'ছবির মূল নায়িকা চরিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নয়। ছোট একটি শহরের মেয়ে।' তার মানে, যদি লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী সানি এ ছবি করতে রাজি হয়ে যান, তাহলে তিনি হিমাচল বা সিমলা শহরের খুব সাধারণ একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন, যিনি কাজের সন্ধানে দিলি্লতে আসেন। ছবির কাহিনীতে দেখা যাবে, কিভাবে সেই সাধারণ মেয়েটি নানা ঘাত-প্রতিঘাতের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকে। ছবির কাহিনীর একটি বড় অংশে থাকবে শহরের নাইটক্লাব-ডিস্কোথেকগুলো। এ ছাড়া শহরের উচ্চবিত্তদের রাতের জীবন, মাদক ও মাফিয়া_ছোট শহরের মেয়েটি সব কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েও কিভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করে, তা দিয়েই সাজানো হয়েছে 'জিসম টু'।
একজন পর্নো তারকাকে নিয়ে ছবি করার নেতিবাচক প্রভাব বা ভারতের রক্ষণশীল সমাজে এর প্রতিফলন কিভাবে হবে, এ ব্যাপারে মহেশ কী ভাবছেন, সেই সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'পর্নো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা তো সমাজের বাইরের কেউ নন। তা ছাড়া শুধু পর্নো ছবিতে অভিনয় করছেন বলেই তাঁকে তাচ্ছিল্য করতে হবে, এটা তো কোনো যুক্তি হতে পারে না। আমি তো বলব, যাঁরা এই তাচ্ছিল্য করেন, তাঁরাও নিজেরা নিয়মিত পর্নোর দর্শক; এবং তা স্বীকার করার মতো সৎ সাহস তাঁদের নেই। যে যা-ই বলুক না কেন, সবাই কিন্তু পর্নো দেখেন, দেখছেন। তা না হলে এটা কোনোভাবেই কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা হতে পারত না। আমার মনে আছে, ১১-১২ বছর বয়সে স্কুলে পাওয়া একটি বইয়ের মাধ্যমে নারীদেহের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। আর এখন তো পর্নো আরো সহজে বাচ্চাদের কাছে পেঁৗছে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এটা টেস্ট টিউব শিশুদের যুগ। এখন মেয়েরা গর্ভাশয় ভাড়া দিচ্ছে, ছেলেরা শুক্রাণু দান করছে। সোজা কথা, সময় অনেক এগিয়েছে। এখন পর্নো তারকাকে দেখা কোনো বিষয়ই নয়। পর্নো তারকাকে খারাপ চোখে দেখার মানসিকতাকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলার সময় অনেক আগেই চলে এসেছে। তা ছাড়া এখন সপ্তাহে তিন দিন সানিকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখছে সবাই। তাঁকে নিয়ে ম্যাগাজিন, পত্র-পত্রিকায় লেখা হচ্ছে। তিনি তো ভারতের প্রতিটি ঘরের প্রিয় একটি অংশ হয়ে উঠছেন।'
কিন্তু ভারতে এত অভিনেত্রী থাকতে সানিই বা কেন? 'সাহসীরা সব সময়ই আমার মনোযোগ কেড়েছে। আমার কাছে মনে হয়, জীবন কখনোই তাদের সঙ্গে সঠিক আচরণটা করেনি। সব সময়ই এক ধরনের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তাদের চলতে হয়। আর এই সার্বক্ষণিক যুদ্ধটাই তাদের অতি সাহসী করে তোলে। সানিকে বেছে নেওয়ার কারণও সেটাই। পর্নো জগতের এক গ্ল্যামারাস তারকা হলেও আমি জানি, এর পেছনে কতটা অন্ধকার রয়েছে, কতটা কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন সানি। আমি সেই অন্ধকার জীবনটাকে তুলে ধরতে চাই, যার সুযোগ সানি আমাকে দেবেন। তবে এ ছবি কিন্তু কোনোভাবেই সানির জীবনভিত্তিক নয়। সানি জন্মসূত্রে একজন ভারতীয় এবং সেই ছাপটি এখনো তাঁর মধ্যে বিদ্যমান। তবে এটাও ঠিক, প্রচণ্ড কষ্ট করে সানি যে পথ পাড়ি দিয়েছেন, সেটা ফুটে উঠেছে তাঁর মধ্যে। আর কষ্ট তো যেকোনো তারকারই জীবনের প্রথম ধাপ। তা সে পর্নো তারকাই হোক না কেন। কাপড় খুলে কোটি মানুষকে যদি সে আনন্দ দিয়ে থাকে, বুঝতে হবে, একই সঙ্গে সে তার অনুভূতিগুলোকেও ঝেড়ে ফেলেছে।'

No comments

Powered by Blogger.