বাঘাইছড়িতে জনসংহতি কর্মীকে গুলি করে হত্যা

সংঘাতের জের ধরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শান্তিচুক্তির পক্ষের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত গ্রুপের (জনসংহতি সমিতি-এমএন লারমা) এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত ব্যক্তির নাম জ্যোতি বিকাশ চাকমা ওরফে সুমন (৩২)। বাঘাইছড়ি উপজেলার পশ্চিম লাইল্যাঘোনা গ্রামের শশীরঞ্জন চাকমার ছেলে সুমন। রূপকারী ইউনিয়নের দোসরপাড়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন সুমন। তিনি জনসংহতির (এম এন লারমা) ইউনিয়ন শাখার সদস্য ছিলেন। এর আগে গত ১০ নভেম্বর বাঘাইছড়িতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন চুক্তির পক্ষের জনসংহতি সমিতি ও বিপক্ষের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের অস্ত্রধারীদের গোলাগুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এ বছর পার্বত্য এলাকায় এই দুটি সংগঠন ও জনসংহতির কর্মীদের মধ্যে আরো কয়েকটি সংঘাতের ঘটনায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারায়।
সোমবার রাতের এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জনসংহতি সমিতি প্রতিপক্ষ সন্তু লারমা গ্রুপকে দায়ী করেছে। তবে জনসংহতির ওই গ্রুপটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে আমাদের বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি জানান, রূপকারী ইউনিয়নের পাগজ্যাছড়ি গ্রামের দোসরপাড়ায় গতকাল এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান সুমন চাকমা। রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়লে আনুমানিক ১টার দিকে আট-দশ জনের একদল অস্ত্রধারী বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় সুমনের বুকে পাঁচটি গুলি করে। এতে ঘটেনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়।
সকালে খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে বাঘাইছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। বাঘাইছড়ি থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ওয়াহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলাও হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.