ক্যাম্পাস হিরো-নানা মাধ্যমের সৌরভ by আলমগীর কবীর

মিথুন পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে। পড়ালেখার বাইরেও আরো অনেক কাজের কাজি তিনি। লেখালেখি, গান, ডিজাইন_সব দিকেই সমান আগ্রহ। সৃজনশীলতার নানা মাধ্যম নিয়ে মেতে থাকলেও লেখাপড়ায় মোটেও পিছিয়ে নন। অনার্স পরীক্ষার ফল বেরোনোর পর জানা গেল, ছাপচিত্র বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন সৌরভ দাস মিথুন।


ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ তাঁর। চারুকলায় ভর্তির কারণও এটাই। ছেলেবেলায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। ২০০৫ সালে 'তোমার চোখে মিসর' শিরোনামে প্রতিযোগিতায় ফারাও ও নীল নদের ছবি এঁকে লাভ করেন স্বর্ণপদক। ১৯৯৯ সালে ভারতের শঙ্কর পুরস্কার ছাড়াও সুইডেন ও ফিনল্যান্ড থেকে পুরস্কার এসেছে তাঁর ঝুলিতে। রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার, জাতীয় জাদুঘর, শিশু একাডেমী, নজরুল একাডেমী ও বাংলা একাডেমী আয়োজিত ছবি আঁকা প্রতিযোগিতাগুলোতে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মিথুন ছবি এঁকে। কেবল রং-তুলিতে বিভোর হয়ে থাকা নয়, পাশাপাশি গানও করছেন। গানের প্রতি ভালোবাসার শুরুও ছোটবেলায়ই। সম্পন্ন করেছেন ভারতীয় হাইকমিশন থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতের ওপর তিন বছরের কোর্স। সুযোগ পেয়েছেন 'ইটিভি বাংলা'য় অতিথি শিল্পী হিসেবে গান করার। মজার ব্যাপার হলো, সেই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ছিলেন নচিকেতা। এখন বেশ কয়টি ছবিতে প্লেব্যাক করছেন তিনি। হয়েছেন বিটিভির তালিকাভুক্ত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। গান গেয়ে এরই মধ্যে মিথুন জিতে নিয়েছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কারও। ১৯৯৯ সালে রবীন্দ্রসংগীতে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম পুরস্কার, ২০০২ সালে নজরুলগীতিতে জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক এবং উচ্চাঙ্গ সংগীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাভ করেছেন দ্বিতীয় স্থান। এ ছাড়া বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে ঘিরে আয়োজিত 'বানাও জার্সি বানাও' প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়ে জিতেছেন দুই লাখ টাকা। এসব সাফল্যের ভিড়েও স্বপ্ন নিয়ে মেতে আছেন মিথুন। কী সেই স্বপ্ন_'ছবি আঁকা আর গান এই নিয়ে মেতে থাকতে চাই সারা জীবন।'

No comments

Powered by Blogger.