আওয়ামী লীগ-জামায়াত তলে তলে যোগাযোগ! by কাজী সিরাজ

মহাজোট সরকারের প্রধান শরিক দল আওয়ামী লীগ অতি সংগোপনে দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু তাদের এ গোপন রাজনৈতিক 'অভিসার' গোপন থাকেনি। ফাঁস করে দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। প্রায় মাসছয়েক ধরে এ ব্যাপারে এদিক-সেদিক ছিটেফোঁটা আলাপ-আলোচনা চলছিল।


তিন মাস আগে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে লিখেছিলাম যে সর্বদাই অবিশ্বস্ত জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী দশম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটা সমঝোতায় পৌঁছে যেতে পারে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন দলীয় নেতাদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সরকারের নমনীয়তা এবং দলের বৈধতার প্রশ্নে কোনো প্রকার অন্তরায় সৃষ্টি না করার শর্তে এ সমঝোতার কথা ভাবা হচ্ছে। কোনো কোনো পাঠক এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেছিলেন অসম্ভব; এটা হতে পারে না। জামায়াত দল ও পিঠ বাঁচানোর জন্য এমন কৌশল গ্রহণ করলেও 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনুসারী' আওয়ামী লীগ তা কিছুতেই করতে পারে না। সত্যি বলতে কী, বক্তব্যটা তখন সাধারণে বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি। কিন্তু খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে মুখ খোলার পর সবাই নড়েচড়ে বসেছেন। আওয়ামী লীগ-জামায়াত সমঝোতার গোপন তৎপরতার বিষয় তাঁর বক্তব্যের পর বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে। দলের জামায়াত-রাজাকারপন্থীদের চাপে তিনি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার বা নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হলে বা চাপে পড়লে যেমন 'বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি' বলে সাংবাদিক ও মিডিয়ার ওপর দোষ চাপিয়ে দেন; তেমন কিছু করবেন কি না বা জামায়াতপন্থীদের সন্তুষ্টি অনুযায়ী সংশোধিত বক্তব্য বা বক্তব্যের একটি 'আধুনিক' ব্যাখ্যা দেবেন কি না জানি না। তবে রামুতে শান্তি সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার এত দিন পর এ ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা বা বক্তব্যের সংশোধিত ভার্সন জনমতের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। মেসেজ যা পৌঁছার তা অলরেডি পৌঁছে গেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে শাসক দল আওয়ামী লীগের তলে তলে যোগাযোগ থাকতে পারে বলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক মহলে তা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বলা চলে, জাতীয় রাজনীতিতে তা নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সখ্য বা মাখামাখি নতুন নয়। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর লীগ-জামায়াত প্রথম সমঝোতা হয় ১৯৮৬ সালে। স্বৈরাচার এরশাদ তাঁর ক্ষমতার বৈধতা অর্জনের জন্য ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও বামমোর্চাসহ সব বিরোধী দল তখন স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে রত। জামায়াত ছিল তখন বিএনপি-ঘনিষ্ঠ আর বামরা লীগ-ঘনিষ্ঠ। শেখ হাসিনার সন্দেহ ছিল ক্যান্টনমেন্ট সংযোগের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্টবাসী খালেদা জিয়া সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলে দিতে পারেন। তাই চট্টগ্রামে এক জনসভায় তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বললেন, এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবে তারা হবে জাতীয় বেইমান। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে শেখ হাসিনাই ১৯৮৬ সালের সেই পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন। বিএনপির সঙ্গে নৈকট্য ও সুসম্পর্কের পাঠ চুকিয়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামী সান্নিধ্য নিল আওয়ামী লীগের। জামায়াতকে সঙ্গে ভিড়িয়ে বিএনপিকে একঘরে করে যেন স্বস্তি পেল আওয়ামী লীগও। দুদল আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী তাদের অন্য বাম-ডান সংযোগীদের নিয়ে '৮৬-এর সেই পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে এরশাদের ক্ষমতা দখলকে বৈধতার সিলছাপ্পর দিয়ে দিল। তখন জামায়াতের সঙ্গে মৈত্রী আওয়ামী লীগের কাছে মধুরই ছিল। ওই সময়ের পত্রপত্রিকার পাতা উল্টালে দেখা যাবে, আওয়ামী লীগ জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধী বিবেচনা করে রাজাকার-আলবদর ডাকতে যেন ভুলেই গিয়েছিল। পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াত আবার বিএনপির সঙ্গে গা ঘেঁষল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রাপ্ত আসন ছিল ১৪০। সরকার গঠনের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। জামায়াতের প্রাপ্ত আসন ছিল ১৮। আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৮৮ আসন, আর এরশাদের জাতীয় পার্টির আসন ছিল ৩৫। সিপিবি ৫, বাকশাল ৫, ন্যাপ (মো.) গণতন্ত্রী পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (সিরাজ) একটি করে চারটি এবং স্বতন্ত্র ও এনডিপি একটি করে আসনে জিতেছিল। জামায়াতের সমর্থন পেলে শেখ হাসিনাও সরকার গঠন করতে পারতেন। এরশাদ এক পায়ে খাড়াই ছিলেন। জামায়াতকে সঙ্গে পাওয়ার চেষ্টাও করেছিল আওয়ামী লীগ। জামায়াত নেতারা পরে বলেছেন, তাঁদের মন্ত্রিত্বও অফার করা হয়েছিল। কিন্তু কৌশলগত কারণে জামায়াত সেবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে না থেকে '৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রায়শ্চিত্ত করেছে এবং বিএনপিকে সরকার গঠনে সহযোগিতা করেছে, বিনিময়ে পেয়েছিল দুটি সংরক্ষিত আসনে মহিলা সংসদ সদস্য। ১৯৯৪ সালে গিয়ে চতুর জামায়াতে ইসলামী তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে আবারও আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ও বাম জোটের সঙ্গে তারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে তারা ১৭৩ দিন হরতাল, অবরোধ ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করে। ১৯৯৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে তাদের সংসদ সদস্যরাও একই দিন একযোগে পদত্যাগ করে। সেই আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর বৈঠকের ছবি প্রায় সব জাতীয় দৈনিকেই ছাপা হয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগারদের মুখে জামায়াতীদের রাজাকার-আলবদর বলে গালি দিতে শোনা যায়নি। তখনকার পত্রপত্রিকা এর সাক্ষী হয়ে আছে। বিচারপতি বদরুল হায়দারকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে জামায়াতের ভোটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য গোলাম আযমের কাছে আওয়ামী লীগের ধরনার বিষয়ও ইতিহাসের অন্তর্গত বিষয়। কাজেই লীগ-জামায়াত নতুন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার কথা শুনলে চমকে ওঠার কোনো কারণ নেই। মানুষ এতে চমকায়ওনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, দুই পক্ষের প্রয়োজনেই এই সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। জনসমর্থনের দিক থেকে ক্ষমতাসীন লীগ সরকার এখন খুবই নাজুক অবস্থানে আছে- এ কথা সরকারের স্তাবক-মোসাহেবরা ছাড়া অন্য সবাই বলছেন। এর কারণও খুব পরিষ্কার। নবম সংসদ নির্বাচনে আগে জনগণের কাছে প্রদত্ত ওয়াদার অতি সামান্যই পূরণ করতে পেরেছে তারা। মোটা দাগের ওয়াদার মধ্যে সন্ত্রাস নির্মূল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনের বিষয় এবং ১০ টাকা কেজি চাল, বিনা মূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরির প্রতিশ্রুতি এখন 'গালভরা বুলি'তে পরিণত হয়েছে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিল, হলমার্ক, ডেসটিনিসহ বিভিন্ন অবৈধ এমএলএম কম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন কেলেঙ্কারি, রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে রাষ্ট্রের টাকায় দলীয় লুটেরাদের বড় লোক বানানোর অসৎ উদ্যোগ লীগ সরকারের চেহারায় অমোচনীয় কলঙ্কতিলক এঁটে দিয়েছে। রাষ্ট্রের অঢেল টাকা অপচয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছু বাড়ানো হয়েছে; কিন্তু চাহিদা বেড়েছে তার চেয়েও বেশি। লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা আগের চেয়ে বরং বেড়েছে। হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম ও গুপ্তহত্যা মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এটা যেন নিয়ন্ত্রণহীন। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ শাসক দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। দফায় দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর ক্রমবর্ধমান অগ্নিমূল্য জনজীবনে নাভিশ্বাস তুলেছে। দলবাজি ও পরিবারবাজি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের পায়ের নিচে এখন আর শক্ত মাটি নেই। বিরোধী দলের প্রতি বৈরী আচরণ, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে দিয়েছে সরকার। সর্বগ্রাসী সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সরকার একদিকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধী দল দমনের বেপরোয়া পথ বেছে নিয়েছে এবং অন্যদিকে ১৮ দলীয় জোট ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা করছে বলে চাউর হয়েছে। এ চেষ্টা আওয়ামী লীগ করতে পারে- অতীত অভিজ্ঞতা সে কথাই বলে। জামায়াতে ইসলামীও এখন গভীর সংকটে। এর আগে তারা এমন শক্ত বিপদে পড়েনি। সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়, ডিসেম্বরের মধ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারাধীন শীর্ষ জামায়াত নেতাদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হবে এবং ফেব্রুয়ারি নাগাদ বিচারের রায় কার্যকর করা হতে পারে। শুধু তাই নয়, দলটির অস্তিত্ব সংকটও দেখা দিতে পারে আইনগতভাবে। দলের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। এসব ভয়াল সংকট থেকে আত্মরক্ষার জন্য কৌশলগতভাবে হলেও শাসকদলের সঙ্গে একটা সমঝোতা এমনকি আত্মসমর্পণও করতে পারে জামায়াত। বিচারাধীন দলীয় নেতাদের ভাগ্যও আইন-আদালতের হাতে ছেড়ে দিতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাই যদি হবে, জামায়াত-শিবির হঠাৎ এভাবে জ্বলে উঠল কেন? জঙ্গি কায়দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এমনকি মন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলা করছে কেন? সরকারই বা তাদের ওপর সাঁড়াশি আক্রমণ চালাচ্ছে কেন? এর জবাব বোধ হয় একটাই- যুদ্ধ হলেই তো যুদ্ধ বিরতির; ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচার জন্যই তো সন্ধির প্রয়োজন হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতা বা জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতা উভয় দলের কট্টরপন্থীদের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার ভারত সফরের পর ভোটের রাজনীতিতে ১৮ দলীয় জোটের সুবিধাজনক অবস্থান (ভারতের সঙ্গে বিএনপির সুসম্পর্ক স্থাপনের পর আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক ভেঙে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগও ভয় পাচ্ছে) নষ্ট করে দেওয়ার কৌশল হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে সাময়িক সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপিকে বাদ দিয়ে হলেও আগামী সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্ন করার অজুহাতে কট্টরপন্থীদের বশ করতে চাইবে আওয়ামী লীগ। জামায়াতের আক্রমণ কৌশলের মাধ্যমে কট্টরপন্থীদের আতঙ্কগ্রস্ত করাও একটি কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতও সরকারি হামলা, গ্রেপ্তার, নেতাদের ভবিষ্যৎ, দলের অস্তিত্ব সংকটের অজুহাতে কট্টরপন্থী দলীয় কর্মী-ক্যাডার সমর্থকদের সমঝোতার প্রশ্নে নমনীয় করার সুযোগ পাবে।
খালেদা জিয়া একজন দায়িত্বশীল জাতীয় নেত্রী। রাজনৈতিক বিভিন্ন সমীকরণের তথ্যপ্রাপ্তির তাঁর সোর্সও অনেক। জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তলে তলে যোগাযোগের নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকলে এ ব্যাপারে জোটের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দল সম্পর্কে এমন কথা তিনি প্রকাশ্য জনসভায় বলতেন না। জামায়াতের হঠকারী কর্মকাণ্ডের দায় বিএনপির না নেওয়ার ঘোষণাও তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ-জামায়াত রাজনৈতিক সমঝোতা যদি প্রকাশ্য রূপ নেয়, এতে জামায়াত লাভবান হবে; কিন্তু তা আওয়ামী লীগের জন্য বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে '৮৬-এর পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণের ফল আওয়ামী লীগের জন্য আখেরে ভালো হয়নি। তা ছাড়া খালেদা জিয়াকে ঘরছাড়া, তাঁর দুই ছেলেকে দেশছাড়া এবং বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আগামী নির্বাচনের জন্য 'যোগ্যতাহারা' করার সরকারি আগ্রাসী ও হিংসাত্মক কার্যকলাপ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটা ভয়াবহ সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। ঘটনাপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে উভয় দলের পেশিবাজ ও অস্ত্রবাজদের হাতে। ওই রকম পরিস্থিতির সুযোগটা জামায়াতও কাজে লাগাতে পারে। মুমূর্ষু সরকার মরণ কামড় দিয়ে বসতে পারে। তখন ভেস্তে যেতে পারে যেকোনো ধরনের গোপন-প্রকাশ্য সমঝোতার প্রয়াস। সৃষ্টি হতে পারে এক-এগারোপূর্ব পরিস্থিতি। সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক শাসন মানুষের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে শান্তি ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ তখন শান্তি, স্থিতি ও নিরাপত্তার অন্বেষণে নতুন ত্রাতার সন্ধান করতে পারে। নেতা-নেত্রীরা কি বিষয়টি অনুধাবন করছেন?
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট
kagi.shiraz@yahoo.com

No comments

Powered by Blogger.