‘মিয়ানমারে সহিংসতার জন্য উগ্র জাতীয়তাবাদীরা দায়ী’

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা দায়ী। কয়েকটি বিদেশি সংস্থা ও রাষ্ট্রও এর সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। থেইন সেইন বলেন, দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হলে সংস্কারের পথে হাঁটতে শুরু করা মিয়ানমার হোঁচট খাবে এবং বিশ্বমঞ্চে এর ‘ভাবমূর্তি’ ক্ষুণ্ন হবে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মিয়ানমার সফর সামনে রেখে গতকাল শনিবার থেইন সেইন এসব কথা বলেন। মিয়ানমারের সরকারি মুখপত্র নিউ লাইট অব মিয়ানমার সেইনের এসব বক্তব্য প্রচার করেছে।
জাতিগত রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যকার সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে সেইন বলেন, রাখাইন রাজ্যে যা ঘটেছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থেকে আড়াল করাটা ‘অসম্ভব’।
গত অক্টোবরে রাখাইনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অন্তত ৮৯ জন নিহত হয়। গত শুক্রবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন থেইন সেইন। চিঠিতে রাখাইন রাজ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা ও রাখাইন রাজ্যে মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর সরকার অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। এ ছাড়া সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। মিয়ানমার সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় এমআর টিভি বলেছে, রাখাইন রাজ্যের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক হাজার ৮১ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। তবে কোন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা তাদের অপরাধ কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
গতকাল প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের বক্তব্যেও জাতিসংঘ মহাসচিবকে পাঠানো চিঠির ভাষ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি উদ্বাস্তু মানুষের পুনর্বাসন থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন।
এদিকে ওবামার সফর সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানির ওপর আরোপিত এক দশকের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মিয়ানমারের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা করতে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় হোয়াইট হাউস।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে একীভূত হতে অনেক দিন ধরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল মিয়ানমার। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় মিয়ানমারের দুর্বল অর্থনীতি বেগবান হবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এশিয়ার তিনটি দেশ (মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া) সফরের উদ্দেশ্যে গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কাল সোমবার তাঁর মিয়ানমারে পৌঁছানোর কথা।
মিয়ানমার সফরে প্রেসিডেন্ট ওবামার থেইন সেইন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করার কথা। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই ওবামার প্রথম বিদেশ সফর। এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি।

No comments

Powered by Blogger.