আ.লীগ নেতাদের দ্বন্দ্বে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষা কেন্দ্র! by এ বি সফিউল আলম

আওয়ামী লীগের নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার তারকনাথ (টিএন) উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে থাকা না-থাকার দ্বন্দ্বের জের ধরে এ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


দলীয় ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কিছুদিন আগে আনোয়ারুল ইসলামকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনোনীত করতে স্থানীয় সাংসদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে একটি চিঠি (ডিও লেটার) পাঠান। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্য সদস্যরা রুহুল আমিনকে সভাপতি করতে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন। ফলে সভাপতি নিয়োগের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
এ অবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পূর্ণ চন্দ্র রায় শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরের মির্জারকোট হাজি মহিম উদ্দিন বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপনের আবেদন করেন। এ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি তিনি নিজেই। তিনি ইতিমধ্যে প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি ডিও সংগ্রহ করেছেন।
বিষয়টি জানতে পেরে গত ২৮ আগস্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন এবং শেষে ইউএনওর মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল স্থানীয় সাংসদ ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। প্রতিমন্ত্রী ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেললে আবারও ভেন্যুটি কেন্দ্র করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন।
পাটগ্রাম টিএন উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুসাইন আহমদ জানান, বোর্ডের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হায়াত মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য চারটি বিদ্যালয়ের আবেদন পেয়েছি। আবেদনগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে মন্ত্রী আমাকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে বোর্ডে একটি ডিও লেটার পাঠান। সে অনুযায়ী আমি ওই স্কুলের সভাপতি।’ তিনি জানান, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় ব্যবস্থাপনা কমিটি একজনকে সভাপতি মনোনীত করে একটি প্রস্তাব বোর্ডে পাঠায়। সেটি আইনানুগ না হাওয়ায় বোর্ড অনুমোদন করেনি। ফলে ওই স্কুলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হবিবর রহমান উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা কমিটি আমাকে সভাপতি মনোনীত করে একটি প্রস্তাব বোর্ডে পাঠিয়েছে। সেটি অনুমোদন না হাওয়ায় এখন আমি কমিটির সভাপতি নই। তবে পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়া হলে তা হবে দুঃখজনক।’

No comments

Powered by Blogger.