আদালতের সঙ্গে সংঘাত- পিছু হটেছে পাকিস্তান সরকার

পিছু হটেছে পাকিস্তানের রাজা পারভেজ আশরাফের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপারে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে তাঁর সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছেন রাজা পারভেজ।


ইতিমধ্যে মামলা পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে দীর্ঘ বিবাদের জের ধরে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান ইউসুফ রাজা গিলানি। সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে প্রেসিডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চিঠি লেখার নির্দেশ পাকিস্তান সরকার গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে অমান্য করে আসছিল। সরকারের এমন অবস্থানের পেছনে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে প্রেসিডেন্ট জারদারির দায়মুক্তি রয়েছে বলে যুক্তি দেখানো হয়।
তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ গতকাল সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, প্রেসিডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে ২০০৭ সালে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল সুইজারল্যান্ডে যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, সেটি প্রত্যাহারের জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখতে তিনি আইনমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসা গতকাল বলেন, অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ নিয়েছেন। কিন্তু ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া আদালতের আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে সুইস কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানোর আগে আদালত সেটি দেখতে আগ্রহী।
বিচারপতি আসিফ সাঈদ বলেন, ‘আদালতের আদেশ পুরোপুরি মানা হয়েছে—চিঠিতে তা দেখে আমাদের পূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জন প্রয়োজন। খসড়া তৈরির পর আমাদের যাচাইয়ের জন্য ওই চিঠি আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।’ বিচারপতির এ বক্তব্য শেষে মামলার কার্যক্রম ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। অবশ্য বিচারপতি এই সময়ের মধ্যেই চিঠির খসড়া তৈরির নির্দেশনা দেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত আবারও শুরু করতে সুইস কর্তৃপক্ষের প্রতি স্পষ্ট আহ্বান জানানোর পরিবর্তে আইনমন্ত্রীর ওই চিঠিতে বরং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলের চিঠিটিই কেবল প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও এমন আভাস পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকেরা।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওই অভিযোগের ওপর তদন্ত শুরু করতে সুইস কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গিলানি অস্বীকৃতি জানান। এতে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হন তিনি। এর ফলে গত জুনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়। এএফপি ও ডন।

No comments

Powered by Blogger.