নাফিস বাংলাদেশের কূটনৈতিক সহায়তা নিতে অনাগ্রহী!-বিচ্ছিন্ন ঘটনা : ক্রাউলি

নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ভবনে বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশি তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো ধরনের সাহায্য নিতে অস্বীকার করেছেন।


ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মুখপাত্র স্বপন সাহা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, নাফিস যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের জানিয়েছেন, তিনি কোনো ধরনের সাহায্য চান না। কিন্তু কাজী নাফিস কেন সাহায্য নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, এর কোনো ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান জোসেফ ক্রাউলি নিউ ইয়র্কে বলেন, নাফিসকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। দুই দেশের সম্পর্কে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না। গতকাল দুর্গাপূজার একটি অনুষ্ঠান বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় ক্রাউলি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আবেগের সঙ্গে নাফিসের ঘটনাটি কোনোভাবেই খাপ খায় না। তাই সমস্যা সমাধানের নতুন কোনো পথ বের করা দরকার বলে তিনি মত দেন।
গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের এক বৈঠকে কাজী নাফিসের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ চাওয়া হয়। এটি পাওয়া গেলে তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের একান্তে দেখা করার সুযোগ ছিল। বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নাফিস আইনি সহায়তা চাইলে সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছে।
ওদিকে বাংলাদেশের দূতাবাস কর্মকর্তারা গতকাল সোমবার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালত থেকে নাফিসের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের অভিযোগনামার কপি সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।
গত বুধবার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ভবনের সামনে থেকে কাজী নাফিসকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নাফিস নামে ২১ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি তরুণের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
ঢাকায় কাজী নাফিসের পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছে, নাফিস যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। এ বছরের জানুয়ারি মাসে ছাত্র ভিসা নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান।

No comments

Powered by Blogger.