বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কিনছে জাপান

পূর্ব চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় তিনটি দ্বীপ কিনতে যাচ্ছে জাপান সরকার। বর্তমানে দ্বীপগুলোর মালিকানা রয়েছে একটি জাপানি পরিবারের হাতে। দেশটির সংবাদমাধ্যমে গতকাল বুধবার এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।এর পরিপ্রেক্ষিতে এশিয়ার অপর শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে তাদের টানাপড়েন বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এ দুই প্রতিবেশী দেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে। চীন-জাপানের পাশাপাশি তাইওয়ানও এগুলো নিজেদের দাবি করে। জনমানুষের বাসহীন এ তিন দ্বীপের পাশে আরো দুটি দ্বীপ রয়েছে। এ পাঁচটির সমন্বয়ে গঠিত দ্বীপপুঞ্জটিকে জাপানি ভাষায় 'সেনকাকু' বলা হয়। চীনারা একে 'দিয়াওয়ু' বলে।
চীন গতকাল এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, 'জাতীয় ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
জাপানের আসাহি, ইয়োমিউরি শিম্বুন, কয়দো ও নিক্কেইসহ বেশির ভাগ জাতীয় দৈনিক জানিয়েছে, দ্বীপ তিনটির জন্য সরকারকে দিতে হবে দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার। চলতি মাসের মাঝামাঝি এ ব্যাপারে চুক্তি সম্পাদন হতে পারে। টোকিওর গভর্নর শিনতারো ইশিহারা চলতি বছরের প্রথমদিকে দ্বীপ কেনার কথা প্রথম উত্থাপন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিকো নোদা এ ব্যাপারে উদ্যোগী হন।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, মন্ত্রিপরিষদের উপসচিব হিরোইউকি নাগাহামা সোমবার দ্বীপের মালিকের সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে মন্ত্রিপরিষদের মুখ্যসচিব ওসামু ফুজিমুরা প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি হংকং থেকে সমুদ্রপথে ওই দ্বীপপুঞ্জে যান কয়েকজন চীনা মানবাধিকারকর্মী। এ ঘটনায় তাঁদের আটক করে জাপানি কোস্টগার্ড। এতে চীনে জাপানবিরোধী আন্দোলন আরো জোরদার হয়। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে জাপানি রাষ্ট্রদূতের গাড়ি থেকে জাপানের পতাকা ছিঁড়ে নেন এক বিক্ষুব্ধ চীনা নাগরিক। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

No comments

Powered by Blogger.