গর্ভধারণে জটিলতা নিয়ে অন্ধকারে এশীয় নারীরা

গর্ভধারণে জটিলতা নিয়ে এশিয়ার নারীদের ধারণা খুবই সীমিত। গর্ভধারণে ব্যর্থতার জন্য তাঁরা নিজেদের দুর্ভাগ্য ও ‘নিয়তির খেলা’কেই দায়ী করেন। ১০টি দেশে পরিচালিত জরিপের ফলাফলে এই তথ্য পাওয়া যায়।গর্ভধারণের জন্য অন্তত ছয় মাস ধরে চেষ্টা করছেন এ রকম এক হাজার নারীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, ওই নারীদের ৬২


শতাংশ তাঁদের গর্ভধারণে কোনো সমস্যা হয়ে থাকতে পারে এমন সন্দেহও করেন না এমনকি গর্ভধারণে ব্যর্থতার জন্য তাঁরা স্বামীদেরও দায়ী করেন না। ওই নারীদের ৮০ শতাংশ তাঁদের সঙ্গী পুরুষদের সামর্থ্যের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করেন না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো জন্মনিরোধকের ব্যবহার ছাড়া বছরব্যাপী নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের পরও গর্ভধারণ না হওয়াকে বন্ধ্যাত্ব বলে চিহ্নিত করা হয়। বন্ধ্যাত্বের এই সংজ্ঞা ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী নারীদের ৪৩ শতাংশের কাছেই অজানা। জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের সবার বয়স ছিল ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। স্থূলতা গর্ভধারণের পথে বাধা হতে পারে বলে ধারণা করেন তাঁদের মাত্র ৩০ শতাংশ নারী। এ ছাড়া, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার ব্যাপারে জানেন মাত্র ৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া যৌন সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পুরুষদের সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে ওই নারীদের ৭৩ শতাংশই অজ্ঞ রয়েছেন। গর্ভধারণে ব্যর্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে ওই নারীদের ৪৬ শতাংশ নিজেদের অক্ষমতা এবং ৪৫ শতাংশ দুর্ভাগ্যকে দায়ী করেন।
চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ায় পরিচালিত ওই জরিপে নেতৃত্ব দেন সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল উইমেনস সেন্টারের গবেষক পি সি ওয়ং। তিনি বলেন, অজ্ঞতার কারণে দম্পতিরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা শেষে যখন চিকিৎসা নিতে আসেন, তত দিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। রয়টার্স।

No comments

Powered by Blogger.