ঢাকার ১০ বাজার ফরমালিনমুক্ত করার উদ্যোগ by রাজীব আহমেদ

ফরমালিন নিয়ে একের পর এক আতঙ্কজনক খবরের ভিড়ে অবশেষে একটি সুসংবাদ পাওয়া গেল। আর তা এসেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই থেকে। রাজধানীর ১০ বাজারকে ফরমালিনমুক্ত রাখার ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে তারা।


এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এবং সংগঠনটির দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির কো-চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকার কারওয়ান বাজার, মালিবাগ বাজার, উত্তরার কুশল সেন্টার ও মহাখালী বাজারকে ফরমালিনমুক্ত বলে ঘোষণা করা হবে। পরে আরো ছয়টি বাজারকে এই তালিকায় আনা হবে।
একের পর এক অভিযানে খাদ্যদ্রব্য ও ফলমূলে ফরমালিনের উপস্থিতি ধরা পড়ার ঘটনায় সাধারণ বাজারের ওপর আস্থা অনেক আগেই চলে গিয়েছিল। ভরসা কিছুটা ছিল চেইন শপগুলোর ওপর। কিন্তু অতি সম্প্রতি আগোরা, স্বপ্ন, হলমার্কের মতো চেইন শপগুলোর কোনো কোনো শাখায়ও অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন পণ্যে ফরমালিন পাওয়া যায়। এমন এক সময়ে এসে ব্যতিক্রমী একটি শুভ উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিল এফবিসিসিআই।
নির্ধারিত বাজারগুলোকে রাসায়নিক ও ফরমালিনমুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর সেগুলো ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে নিয়মিত তদারকি করা হবে। ফরমালিনযুক্ত মাছ ও ফল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। ফরমালিনের সহনীয় মাত্রা কতটুকু, এ রাসায়নিকের মাত্রা ও উপস্থিতি কিভাবে শনাক্ত করা যায় ইত্যাদি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাত দিনের একটি প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। আর সমিতিগুলোকে দেওয়া হবে বিদেশ থেকে আমদানি করা ফরমালিন কিট- যা দিয়ে ফরমালিনের সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), সিটি করপোরেশনসহ আরো কিছু সংস্থা বাজারে ভেজালবিরোধী অভিযান চালায়। বিচ্ছিন্নভাবে চালানো এসব অভিযানে বিক্রেতাদের জরিমানা করা হয়, নষ্ট করা হয় সংশ্লিষ্ট পণ্য। বড় বড় চেইন শপ ও রাসায়নিকমুক্ত বলে দাবিকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যেও রাসায়নিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে অভিযানে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষই কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা কোনো বাজারের পণ্যকে রাসায়নিকমুক্ত বলে ঘোষণা দিতে পারেনি। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক, হতাশা।
রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি চেইন শপের ক্রেতা আজিম খান বলেন, 'কোনো বাজার থেকে অথবা প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনলে তা নিরাপদ হবে সেটি জানানোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থাগুলোর। কিন্তু তারা শুধু জানায় বছর শেষে কত টাকা জরিমানা হয়েছে। আর টিভি ক্যামেরা ডেকে খুচরা ব্যবসায়ীদের ফল ও মাছ নষ্ট করে। তাদের এসব অভিযানে কোনো কাজ হচ্ছে না। ক্রেতারা কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।'
উদ্যোগটি প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এবং সংগঠনটির দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির কো-চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, স্থানীয় বাজার কমিটিগুলোকে নিয়েই তাঁরা এ কাজটি করবেন। বাজার কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হবে। তারা প্রতিদিন বাজারের পণ্যে পরীক্ষা করে ফরমালিন না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সাত দিনের একটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
হেলাল উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে তিনটি বাজার কমিটির সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন । তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি। এ কাজে কয়েকটি ব্যাংক অর্থায়ন করবে জানিয়ে হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছেন। তারা টাকা দিতে রাজি হয়েছে। এ জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
হেলাল উদ্দিন বলেন, 'আগামী মাসের শুরুতে আমরা সব কাজ শেষ করে চারটি বাজারকে ফরমালিনমুক্ত বলে ঘোষণা করতে পারব। আশা করি ক্রেতারা ওই সব বাজার থেকে নিশ্চিন্তে পণ্য কিনতে পারবেন।' তিনি আমদানি পর্যায়ে পণ্যে ফরমালিন মিশিয়ে দেশে প্রবেশ করছে কি না তা তদারকি করারও পরামর্শ দেন। এ জন্য প্রতিটি বন্দরে পরীক্ষাগার স্থাপন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
তবে ঢাকা মহানগর মাছ ও কাঁচাবাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সিকদার মনে করেন, শুধু কয়েকটি বাজারকে ফরমালিনমুক্ত ঘোষণা করলে হবে না। আমদানি পর্যায়ে মাছে ফরমালিন মিশিয়ে আসছে কি না তা তদারকি করতে হবে। তিনি দাবি করেন, দেশে উৎপাদিত মাছে সাধারণত ফরমালিন মেশানো হয় না; বরং আমদানিকৃত মাছেই বেশি ফরমালিন থাকে। ওই মাছ বাজারে ঢোকার আগেই ফরমালিন পরীক্ষা করতে হবে। বরফেও ফরমালিন মেশানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরফকলগুলোকে তদারকির মধ্যে আনতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.