যথাযথ তদন্ত ও শাস্তি হওয়া দরকার- গরিবের চাল লুটের অভিযোগ

একদিকে সরকার গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যে চাল বিতরণ করে, অন্যদিকে সরকারি দলের পরিচয়ধারী একদল ক্যাডার সেসব লুট করে। শুধু তা-ই নয়, চাল বিতরণের দায়িত্ব পালনকারী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মারধরও করে। সম্প্রতি লালমনিরহাটে এ রকম একটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে গেছে।


সরকারি দলের লোকজন কীভাবে সরকারের ভালো একটি উদ্যোগ নষ্ট করে দিচ্ছে, এটি তার নিকৃষ্ট নমুনা।
লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে ইউনিয়নের নির্বাচিত নারী সদস্য দুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে খয়রাতি চাল বিতরণ করছিলেন। এ সময় কিছু লোক ঘরে ঢুকে সাত বস্তা চাল দাবি করে। এ অন্যায় দাবি না মানার কারণে ওই ব্যক্তিরা তাঁকে মারধর করে ও খয়রাতি চাল লুট করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। মামলায় যে ১৩ জনের নাম এসেছে, তাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দল ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত। যদিও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, সুনাম নষ্ট করার জন্য তাঁদের দলের লোকজনের নামে ‘মিথ্যা’ মামলা করা হয়েছে।
গরিবের চাল লুট করা হয়েছিল কি না, সেটাই হলো প্রশ্ন। এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কী বলেন? লুটের ঘটনাটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এখানে রাখঢাকের কোনো ব্যাপার ছিল না। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে লাঠি, ছোরা, বল্লম, শাবল নিয়ে আসামিরা ঘরের দরজা ভেঙে হামলা চালিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা যে সত্য, সে ব্যাপারে কেউ আপত্তি করছেন না। যাদের বিরুদ্ধে লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা যদি নিরপরাধ হয়, তা হলে তদন্ত ও আদালতের রায়েই তো তার নিষ্পত্তি হতে পারে। কিন্তু এর আগেই ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকে প্রকৃতপক্ষে একটি অপরাধমূলক ঘটনাকে দলীয় রাজনৈতিক রূপ দিতে চাওয়া হয়েছে, যা সমীচীন নয়।
গরিবের চাল যারা লুটে খায়, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। বিষয়টির যথাযথ তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া দরকার। আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারি দল বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে না পারলে নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে আনবে।

No comments

Powered by Blogger.