চাই কঠোরতম দণ্ড by ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার করার দাবি জাতীয় দাবি ছিল। গোলাম আযম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রধানতম দোসরদের একজন। তার প্ররোচনায় কতজন যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে অকালে। কত নারী যে সম্ভ্রম হারিয়েছে। কত ঘরবাড়ি যে পুড়েছে। লাখ লাখ শহীদের পরিবারের দাবি ছিল, ধর্ষণের শিকারদের দাবি ছিল, নির্যাতিত মা-বোনদের দাবি ছিল_ যুদ্ধাপরাধের দায়ে গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হোক।
জামায়াতে ইসলামী গোলাম আযমকে স্বাধীন বাংলাদেশে দলের আমির নির্বাচিত করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল আমাদের লাল সবুজ পতাকার প্রতি। আমরা তা মেনে নেইনি। সে সময়েও তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তৎকালীন সরকার তার বিচারে আন্তরিক ছিল না। গণআদালতের রায়কে তারা উপহাস করেছিল। এখন তাকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা চাই তার কঠোরতম দণ্ড। গোলাম আযম এবং তার সঙ্গীদের অপরাধকর্মের অনেক সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। এ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে প্রকাশ্যে_ হাজার হাজার গ্রামে, অগণিত বন্দরে। দিনের পর দিন_ ৯ মাস ধরে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে থেকে এবং স্বাধীনভাবে বাঙালিদের বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। পরিবারে পরিবারে রয়েছে অপরাধের সাক্ষী। অনেক সময় বিচার কাজে আইনজীবীরা সাক্ষীদের কী বলতে হবে, কীভাবে বলতে হবে_ সেসব বলে দেন। কিন্তু একাত্তরে রাজাকার-আলবদরদের অপরাধের জন্য এসবের কিছুই প্রয়োজন পড়বে না। লাখ লাখ নয়, আমরা কোটি কোটি সাক্ষী এখনও সত্য তুলে ধরায় প্রস্তুত। এতদিন কেন গোলাম আযমকে বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি, সে প্রশ্ন তোলাই যায়। আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় হারিয়েছি। আর তা করা যায় না।
গোলাম আযমের প্রতি আমার ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই। মতিউর রহমান নিজামীর প্রতিও নেই। একাত্তরে তাদের সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। তবে সবকিছু ঘটেছে তাদের পরিকল্পনামাফিক এবং নির্দেশ অনুসারে। তাদের অনুসারীদের দেখেছি নিষ্ঠুর ঘাতক হিসেবে। তারা হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। বাঙালিদের চিরতরে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। কত বুদ্ধিজীবীকে তারা হত্যা করেছে। তাদের বিচার কাজ সম্পন্ন না হলে আমরা সভ্যতার আলোতে পেঁৗছাতে পারব না। তারা আমাদের কাছে কীটপতঙ্গ বৈ কিছু নয়।
গোলাম আযমকে কারাগারে পাঠালেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয়. অনিশ্চয়তা কম নেই। জনগণ চায় বিচার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক। ষড়যন্ত্র থেমে নেই, নানা ফন্দিফিকির চলছে অপরাধীদের রক্ষার জন্য। তারা সফল হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা থাকে না, লাখ লাখ মানুষের আত্মদান অনর্থক হয়ে যায়।
শেখ হাসিনার সরকার গোলাম আযমকে গ্রেফতার করেছে। একাত্তরে তার আরও কয়েকজন সহযোগী এখন বিচারের অপেক্ষায়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন। বিচার কাজ সঠিক ধারায় অগ্রসর হতে থাকলে
তারা জনগণকে সক্রিয়ভাবেই
পাশে পাবে।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী : মুক্তিযোদ্ধা
গোলাম আযমের প্রতি আমার ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই। মতিউর রহমান নিজামীর প্রতিও নেই। একাত্তরে তাদের সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। তবে সবকিছু ঘটেছে তাদের পরিকল্পনামাফিক এবং নির্দেশ অনুসারে। তাদের অনুসারীদের দেখেছি নিষ্ঠুর ঘাতক হিসেবে। তারা হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। বাঙালিদের চিরতরে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। কত বুদ্ধিজীবীকে তারা হত্যা করেছে। তাদের বিচার কাজ সম্পন্ন না হলে আমরা সভ্যতার আলোতে পেঁৗছাতে পারব না। তারা আমাদের কাছে কীটপতঙ্গ বৈ কিছু নয়।
গোলাম আযমকে কারাগারে পাঠালেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয়. অনিশ্চয়তা কম নেই। জনগণ চায় বিচার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক। ষড়যন্ত্র থেমে নেই, নানা ফন্দিফিকির চলছে অপরাধীদের রক্ষার জন্য। তারা সফল হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা থাকে না, লাখ লাখ মানুষের আত্মদান অনর্থক হয়ে যায়।
শেখ হাসিনার সরকার গোলাম আযমকে গ্রেফতার করেছে। একাত্তরে তার আরও কয়েকজন সহযোগী এখন বিচারের অপেক্ষায়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন। বিচার কাজ সঠিক ধারায় অগ্রসর হতে থাকলে
তারা জনগণকে সক্রিয়ভাবেই
পাশে পাবে।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী : মুক্তিযোদ্ধা
No comments