সিনেমা পাইরেসি হয় কোথা থেকে? by সাগর মৈত্রী
একটি ফোন। হ্যালো! ফোনের অপর প্রান্ত থেকে, ‘আপনার কাছে একটি ছোট্ট প্যাকেট পাঠাইছি, ভাই। দেখে নিয়েন।’
ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরই একটি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে প্যাকেট আসে। সেই প্যাকেটটি খুলে দেখা যায়, একটি ছোট্ট মেমোরি কার্ড এবং একটি সিডি। সিডিটি ডিভিডি প্লেয়ারে দেওয়ার পর আঁতকে উঠতে হয়।
ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরই একটি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে প্যাকেট আসে। সেই প্যাকেটটি খুলে দেখা যায়, একটি ছোট্ট মেমোরি কার্ড এবং একটি সিডি। সিডিটি ডিভিডি প্লেয়ারে দেওয়ার পর আঁতকে উঠতে হয়।
কারণ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এই মানুষটি প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করে ঈদে তাঁর ছবিটি মুক্তি দিয়েছিলেন। সেই ছবিটির ঝকঝকে প্রিন্ট। প্যাকেটে ছোট্ট করে লেখা, ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। কাউকে বলা যাবে না। র্যাবকে জানানো যাবে না। তাহলে দু-এক দিনের মধ্যেই ভিডিও সিডি বাজারে চলে আসবে।
ওপরের ঘটনাটি নাটকীয়, তবে পুরো সত্যি। ঈদুল আজহার দুই সপ্তাহ পরই বিকেলবেলা এই ফোনটি করেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। এমন অজ্ঞাত ফোনের আতঙ্কে রয়েছেন চলচ্চিত্র প্রযোজকেরা। ছবি মুক্তি দেওয়ার পর ছবিটি ব্যবসা করুক বা না করুক, ভিডিও চোরদের জন্য পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে।
উপরে উল্লিখিত ঘটনাটি ঘটে ঈদের ঠিক দুই সপ্তাহ পরে। ওই প্রযোজক প্রথম আলোর কাছে অনুরোধ করেন, তাঁর নাম যেন প্রকাশ না করা হয়। তাহলে ভিডিও সিডি বাজারে চলে আসবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ঈদে যে প্রযোজকদের ছবি মুক্তি পেয়েছে, প্রত্যেককেই এমনিভাবে টাকা দিতে বলা হয়েছে। প্রযোজকেরা কেউই ভয়ে সরাসরি এ নিয়ে কথা বাড়াননি। ঈদের ছবির অপর এক প্রযোজক বলেন, তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি মুঠোফোনেই নিজের অনেক সমস্যা দেখিয়ে সেটিকে পাঁচ লাখ টাকায় আপস করেছেন এবং দুই দফায় টাকা দিয়েছেন। এই টাকা দিতে তাঁকে গাজীপুর পর্যন্ত যেতে হয়েছে। একটি বেসরকারি পরিবহনের মাধ্যমে তিনি প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছেন।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সামনে ছবি মুক্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেক প্রযোজকই। প্রশ্ন উঠেছে, ভিডিও পাইরেসির সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে প্রায়ই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিভিন্ন জনকে আটক করছে, মামলা হচ্ছে; তার পরও কেন থামছে না ভিডিও চোরদের উৎপাত?
এ ব্যাপারে ভিডিও পাইরেসির শিকার হয়েছেন, এমন একজন প্রযোজক খসরু বলেন, ভিডিও পাইরেসির সঙ্গে সরাসরি যে চক্রটি জড়িত, তাদের অনেককে জেলে ধরে রাখতে পারলেও, অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আসছে। অপরাধটি জামিনযোগ্য। বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে অনেকেই আর এ কাজ করার সাহস দেখাত না। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভিডিও পাইরেসির অপরাধে কারও কোনো সাজা হয়নি। ফলে এই অন্যায় কাজ থেকে তাদের বিরত করা যাচ্ছে না।
সিনেমা পাইরেসি হয় কোথা থেকে? এই প্রশ্নও এখন উঠেছে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, মূলত সিনেমা হল থেকেই এটি করা হচ্ছে এবং সিনেমা হলের মালিকদের অসততার জন্যই সিনেমার প্রযোজকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একটি ছবি প্রদর্শনের সময় কোনো কোনো সিনেমা হলের মালিকদের সহায়তায় ডিভি ক্যাম ক্যামেরার সাহায্যে ছবিটি ক্যাসেটে বাক্সবন্দী করে তারপর তা সিডি আকারে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সিনেমা হলের মালিকদের দেওয়া হয় কখনো এক লাখ টাকা আবার কখনো দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট ছবির প্রযোজক যদি ভিডিও চোরদের তাদের দাবিমতো টাকা না দেন, তবে তা বাজারে ছেড়ে দিয়ে ওই চোররা আয় করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো। আর প্রযোজককে পথে বসে যেতে হয়। পাইরেসির শিকার হয়ে গত এক বছরে ২৮ জন প্রযোজক তাঁদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে র্যাবের গোয়েন্দাপ্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল হাসান বলেন, ‘সারা দেশেই র্যাব ভিডিও পাইরেসির বিষয়টি তদারক করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। আশা করছি শিগগিরই এটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।’
ওপরের ঘটনাটি নাটকীয়, তবে পুরো সত্যি। ঈদুল আজহার দুই সপ্তাহ পরই বিকেলবেলা এই ফোনটি করেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। এমন অজ্ঞাত ফোনের আতঙ্কে রয়েছেন চলচ্চিত্র প্রযোজকেরা। ছবি মুক্তি দেওয়ার পর ছবিটি ব্যবসা করুক বা না করুক, ভিডিও চোরদের জন্য পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে।
উপরে উল্লিখিত ঘটনাটি ঘটে ঈদের ঠিক দুই সপ্তাহ পরে। ওই প্রযোজক প্রথম আলোর কাছে অনুরোধ করেন, তাঁর নাম যেন প্রকাশ না করা হয়। তাহলে ভিডিও সিডি বাজারে চলে আসবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ঈদে যে প্রযোজকদের ছবি মুক্তি পেয়েছে, প্রত্যেককেই এমনিভাবে টাকা দিতে বলা হয়েছে। প্রযোজকেরা কেউই ভয়ে সরাসরি এ নিয়ে কথা বাড়াননি। ঈদের ছবির অপর এক প্রযোজক বলেন, তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি মুঠোফোনেই নিজের অনেক সমস্যা দেখিয়ে সেটিকে পাঁচ লাখ টাকায় আপস করেছেন এবং দুই দফায় টাকা দিয়েছেন। এই টাকা দিতে তাঁকে গাজীপুর পর্যন্ত যেতে হয়েছে। একটি বেসরকারি পরিবহনের মাধ্যমে তিনি প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছেন।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সামনে ছবি মুক্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেক প্রযোজকই। প্রশ্ন উঠেছে, ভিডিও পাইরেসির সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে প্রায়ই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিভিন্ন জনকে আটক করছে, মামলা হচ্ছে; তার পরও কেন থামছে না ভিডিও চোরদের উৎপাত?
এ ব্যাপারে ভিডিও পাইরেসির শিকার হয়েছেন, এমন একজন প্রযোজক খসরু বলেন, ভিডিও পাইরেসির সঙ্গে সরাসরি যে চক্রটি জড়িত, তাদের অনেককে জেলে ধরে রাখতে পারলেও, অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আসছে। অপরাধটি জামিনযোগ্য। বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে অনেকেই আর এ কাজ করার সাহস দেখাত না। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভিডিও পাইরেসির অপরাধে কারও কোনো সাজা হয়নি। ফলে এই অন্যায় কাজ থেকে তাদের বিরত করা যাচ্ছে না।
সিনেমা পাইরেসি হয় কোথা থেকে? এই প্রশ্নও এখন উঠেছে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, মূলত সিনেমা হল থেকেই এটি করা হচ্ছে এবং সিনেমা হলের মালিকদের অসততার জন্যই সিনেমার প্রযোজকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একটি ছবি প্রদর্শনের সময় কোনো কোনো সিনেমা হলের মালিকদের সহায়তায় ডিভি ক্যাম ক্যামেরার সাহায্যে ছবিটি ক্যাসেটে বাক্সবন্দী করে তারপর তা সিডি আকারে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সিনেমা হলের মালিকদের দেওয়া হয় কখনো এক লাখ টাকা আবার কখনো দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট ছবির প্রযোজক যদি ভিডিও চোরদের তাদের দাবিমতো টাকা না দেন, তবে তা বাজারে ছেড়ে দিয়ে ওই চোররা আয় করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো। আর প্রযোজককে পথে বসে যেতে হয়। পাইরেসির শিকার হয়ে গত এক বছরে ২৮ জন প্রযোজক তাঁদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে র্যাবের গোয়েন্দাপ্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল হাসান বলেন, ‘সারা দেশেই র্যাব ভিডিও পাইরেসির বিষয়টি তদারক করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। আশা করছি শিগগিরই এটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।’
No comments