দ্বাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-বছর শুরুর বড় আয়োজন by ইকবাল হোসাইন চৌধুরী

মাদের যেমন সত্যজিৎ রায় ইরানের তেমন দারিয়ুস মেহ্রজুই। আমাদের সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী আর ইরানের দারিয়ুস মেহ্রজুইয়ের গাভ বা দ্য কাউ। ১৯৭০-এর দশকে ইরানি ছবির নবতরঙ্গ বা নিউ ওয়েভের সূচনা হয় মূলত মেহ্রজুইয়ের গাভ ছবির হাত ধরেই। ইরানি ছবির সেই কিংবদন্তিই আসছেন ঢাকায়। সব ঠিকঠাক থাকলে আজই ঢাকা পৌঁছানোর কথা এই ইরানি চলচ্চিত্র স্রষ্টার। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে দারিয়ুস আসছেন ঢাকায়।


তাঁর ছবি নিয়ে এবারের উৎসবে থাকছে বিশেষ আয়োজন। দ্বাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি। উৎসব আয়োজক কমিটি জানাচ্ছে, দারিয়ুস মেহ্রজুইয়ের উপস্থিতি ছাড়াও আরও বেশ কিছু চমক থাকছে এবারের উৎসবে। ১২ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই আন্তর্জাতিক উৎসব। উৎসবের এবারের থিম ‘বেটার ফিল্ম, বেটার অডিয়েন্স, বেটার সোসাইটি’। নয় দিনের এই উৎসবে প্রদর্শিত হবে গোটা বিশ্বের প্রায় ২০০টি ছবি। ছবিগুলো প্রদর্শিত হবে জাতীয় জাদুঘর, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে।
প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কমপক্ষে ৭০ মিনিট দৈর্ঘ্যের কাহিনীচিত্র। সম্মাননার সঙ্গে সেরা ছবির পুরস্কার বিজয়ী ছবির নির্মাতা পাবেন এক লাখ টাকা। প্রতিযোগিতা বিভাগের ছবিগুলোর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়ার দ্য ডব্লিউসি, থাইল্যান্ডের মাইন্ডফুলনেস অ্যান্ড মার্ডার, ইরানের ইনভাইটেশন, আলজেইমারস, চীনের অ্যাডিক্টেট টু লাভ ইত্যাদি। আছে ভারতের নোবেল চোর। বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় লড়বে গৌতম ঘোষের মনের মানুষ এবং নাসির উদ্দিন ইউসুফের গেরিলা।
উৎসবে এছাড়াও থাকছে সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড এবং রেট্রোসপেকটিভ বিভাগ। উৎসবে আলাদা আয়োজন থাকছে প্রয়াত নির্মাতা তারেক মাসুদকে নিয়ে। মুক্তির গান এবং মাটির ময়নাসহ তাঁর পাঁচটি ছবি প্রদর্শিত হবে উৎসবে। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং স্পিরিচুয়াল ছবির জন্য থাকবে আলাদা বিভাগ। নারী নির্মাতাদের ছবির জন্যও থাকছে আলাদা আয়োজন। এই অংশে থাকবে ব্রাজিল, চীন,যুক্তরাষ্ট্র, তুরষ্ক ইত্যাদি দেশের ছবি।
উৎসবের সময়ে ছবির প্রদর্শনী ছাড়াও চলচ্চিত্র বিষয়ক সেমািনেরর আয়োজন থাকবে।

দারিয়ুস মেহ্রজুই
ইরানের তেহরানে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। সংগীত আর পিয়ানোর দিকে ঝোঁক ছিল শৈশবে। লস অ্যানজেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যান চলচ্চিত্র বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করতে। কিন্তু পরে মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরে যায় তাঁর। যারপরনাই হতাশ হন ফিল্ম স্কুলের মাত্রাতিরিক্ত হলিউডপ্রীতি দেখে। ১৯৬৪ সালে স্নাতক শেষ করার পর একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন তিনি। মার্কিন মুলুক থেকে ইরানে ফিরে তৈরি করেন প্রথম ছবি ডায়মন্ড ৩৩ (১৯৬৭)। খানিকটা জেমস বন্ড ঘরানার এই ছবি দর্শক-সমালোচক কারোরই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি। মেহ্রজুই নিজেও আর ওই ঘরানার ছবি বানানোর পথে হাঁটার ভুল করেননি।
দুই বছর পরে তিনি তৈরি করেন গাভ বা দ্য কাউ। গোলাম হুসেন সায়েদির গল্প থেকে তৈরি হয় এই ছবির চিত্রনাট্য। এই ছবিই মূলত সূচনা করে ইরানি চলচ্চিত্রের ‘নিউ ওয়েভ’। দেশ-বিদেশে মেহ্রজুইয়ের খ্যাতি এনে দেয় এই ছবি। ১৯৭৯ সালে ইরানের বিপ্লবের সময় সাময়িকভাবে দেশে ছেড়ে গেলেও আবার ফিরে এসে শুরু করেন সিনেমা তৈরি।
ইরানের গৃহায়ণব্যবস্থা নিয়ে তৈরি করেন কমেডি ছবি দ্য টেনেন্টস। বক্স অফিসে সাড়া ফেলে দেয় এই ছবি।
তাঁর অন্যান্য ছবির মধ্যে আছে বানু (১৯৯২), সারা (১৯৯৩), লায়লা (১৯৯৬), মেহমান ই মামান (২০০৪)।

No comments

Powered by Blogger.