ভিতর-বাহিরে শিমু by কামরুজ্জামান মিলু

রাত ১০টা। সাজ্জাদ সুমনের 'দক্ষিণায়নের দিন' ধারাবাহিক নাটকের শুটিং থেকে ফিরলেন শিমু। কথা হচ্ছিল শিমুর বনানীর বাসায়। শুটিং শেষ করে বাসায় ফিরতে প্রায় রাতেই দেরি হয় তাঁর। শিমু বলেন, 'শুটিং থাকলে সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই বেরিয়ে পড়ি। বেশির ভাগ সময় দুই শিফটে কাজ করে ঘরে ফিরতে রাত হয়ে যায়। এরপর রাতের খাবার খেয়ে পরের দিনের জন্য প্রস্তুতি চলে।'


শিমু এখন ধারাবাহিক নাটকে কম কাজ করছেন। নতুন বছর নিয়ে কাজের পরিকল্পনা একটু ভিন্ন। 'ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক চরিত্রে কাজ করেছি স্রেফ নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। আর এখন বেছে কাজ করার একটা সুযোগ এসেছে। তাই নতুন বছরে ধারাবাহিক নাটকে কম কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'_বললেন শিমু।
প্রকৃতি বেশ টানে তাঁকে। অবসর পেলেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েন প্রকৃতি দেখতে। এই তো থার্টি ফার্স্ট নাইটে কঙ্বাজার সমুদ্রসৈকতে কাটিয়ে এলেন। শিমু বললেন, 'শুটিংয়ের কারণে চলে আসতে হয়েছে আমাকে। পরিবার ও বন্ধুরা এখনো কঙ্বাজারে মজা করছে। সুযোগ পেলেই ঢাকার বাইরে ঘুরতে যাই। ভীষণ ভালো লাগে আমার।'
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে প্রথম পর্বে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর বর্তমানে শিমু 'বাংলাদেশ টেলিভিশন নাটকে অভিনয় নারী শৈল্পিক ও আর্ট সামাজিক প্রেক্ষিত' বিষয়ে পিএইচডি করছেন। অভিনয় ও পড়াশোনা উভয় ক্ষেত্রেই নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ শিমু।
ধারাবাহিক 'স্বপ্নচূড়া', 'এফএনএফ', 'হাউজফুল'সহ_কমেডি নাটকগুলোতে শিমু বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তবে 'ললিতা' নাটকের শিমুকে দেখা গেছে ভিন্ন রূপে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে শিমু বলেন, 'অভিনয় না করাটাই বড় অভিনয়। ব্যক্তি মানুষকে ছাপিয়ে নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে বিভিন্নভাবে দর্শকদের সামনে সফলভাবে হাজির হতে চেষ্টা করি।'
অভিনয়ে আসার আগে চাকরি করতেন শিমু। তখন তিনি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। একটি অ্যাড ফার্মের ক্লায়েন্ট সার্ভিসে পার্টটাইম কাজ করতেন। শখের বশে তৌকীর আহমেদের 'নাইওরী' নাটকে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আর এতেই পরিচালক জিনাত হাকিমের চোখে পড়েন তিনি। এক দিন তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে অফিসে হাজির হন আজিজুল হাকিম ও জিনাত হাকিম। অভিনয়ের প্রস্তাব সেদিন না দিয়ে শুধু তাঁর ফোন নম্বরটি নিয়ে যান তাঁরা। এর কিছু দিন পরই শিমুকে ফোন করে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন জিনাত হাকিম। "ঘটনাটি এখনো আমার মনে পড়ে। জিনাত ভাবি অফিসে দেখা করার পর আমাকে একটি পাণ্ডুলিপি পাঠান। গল্পে একজন নায়ক ও দুজন নায়িকা। আমার চরিত্রটার উপস্থিতি অনেক কম। আমি রাজি হইনি। কিছু দিন পর আরেকটি পাণ্ডুলিপি পাঠান এবং ফোনে বলেন, 'চরিত্রটি তোমার পছন্দ হবে।' সত্যিই আমার পছন্দ হলো এবং অভিনয় করলাম"_বললেন সুমাইয়া শিমু। পরে জিনাত হাকিমের কাছে শিমু জানতে চেয়েছিলেন, 'প্রথমবার ফিরিয়ে দেওয়ার পরও আবার কেন পাণ্ডুলিপি পাঠালেন। অন্য কেউ হলে তো রাগ করার কথা।' উত্তরে জিনাত হাকিম হেসে বলেছিলেন, 'তোমার কনফিডেন্ট দেখে মনে হয়েছিল তুমি অনেক ভালো করবে, অনেক দূর যাবে।' এ ঘটনাটি বলার পর শিমু সহজ স্বীকারোক্তি নিয়ে বলেন, 'জিনাত ভাবির ওই নাটকটি করার পরই আমার অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য নাটকে কাজ করা শুরু করি। ওই স্মৃতিটা আমি ভুলিনি এবং ভুলব না।'
ছবি : নাভিদ ইশতিয়াক তরু

No comments

Powered by Blogger.