সংলাপে বিএনপি-শুধু কৌশল নয়, আন্তরিকতাও কাম্য

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের জন্য এ সংলাপে বিএনপির প্রতিনিধি দল আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতি তাঁর সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


একটি গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপি নেতৃত্বের এই প্রজ্ঞাকে স্বাগত জানাই। আজ একই বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংলাপে বসবেন রাষ্ট্রপতি। আমরা তাঁদের কাছ থেকেও একই ধরনের প্রজ্ঞা ও শুভবুদ্ধি আশা করি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে আলাপ-আলোচনার ভেতর দিয়েই দেশের রাজনীতিতে বিরাজমান সব বিরোধের অবসান ঘটবে। এর জন্য কোনো ধরনের সংঘাত বা রক্তক্ষয়ী পথ অনুসরণের প্রয়োজন নেই।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিটি কেবল বিএনপির দাবি নয়। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপকালে আরো বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল একই দাবি জানিয়েছে। বুদ্ধিজীবী এবং সচেতন নাগরিক সমাজের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিও একই মত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী আরো দুই মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা সরকারি দলের আচরণে বরাবরই একগুঁয়েমি লক্ষ করে আসছি_যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ব্যাপারে কিছু মন্ত্রী বা আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্যকে রীতিমতো উসকানিমূলকও বলা চলে।
প্রধান বিরোধী দলকেও এ ক্ষেত্রে যৌক্তিক ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে। বছরের পর বছর একনাগাড়ে সংসদ বর্জন করে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপি যদি একই সঙ্গে সংসদেও সরব থাকত, তাহলে বরং তারা জনগণের অধিক সমর্থন ও সহানুভূতি পেত। সরকারি দল মাত্র চার মিনিটে সংসদে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পাস করতে পারত না। আবার সরকারি দল এর দায়দায়িত্ব বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে, তা-ও করতে পারত না। তারা বলতে পারত না, 'আমরা তো সেদিন বলেছিলাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে আপনাদের বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সংসদে উপস্থাপন করুন, যৌক্তিক হলে আমরা তা মেনে নেব।' বিএনপি যদি সেদিন সংসদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করত এবং তার পরও সরকারি দল তা গ্রহণ না করত, তাহলে জনগণের সামনে বিএনপি পরিষ্কার থাকতে পারত।
যা হোক, আমরা অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। আমরা আশা করি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসে বিএনপি যে রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে, পরবর্তী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিএনপি তাকে আরো শাণিত করবে। আমরা আশা করি, আওয়ামী লীগও সদিচ্ছার পরিচয় দেবে। যেহেতু উভয় দলই দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে, তাই উভয় দলের কাছ থেকেই কৌশল নয়, আমরা আন্তরিকতাই প্রত্যাশা করি।

No comments

Powered by Blogger.