কারও পৌষ মাস কারও সর্বনাশ by বদর উদ্দিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কুইট্টা হাওর এলাকায় তিতাস নদীর প্রধান শাখা মোড়ল গজারিয়া নদীর ওপর পুটিয়া সেতু নির্মাণের সময় একটি বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হলেও সেই বাঁধ আর অপসারণ করা হয়নি। বরং প্রতিবছর সেই বাঁধ মেরামত করে মাছ ধরছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।


সম্প্রতি পুটিয়া সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের পূর্ব দিকে নদীর পানি প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষিজমিতে সেচকাজে বিঘ্ন ঘটছে। এতে হাওর এলাকার কয়েক শ একর জমির বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি সেচযন্ত্র দিয়ে পূর্ব দিক থেকে পানি সেচে পশ্চিম দিকে ফেলেন। এরপর পূর্ব দিক থেকে মাছ ধরেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়কের পুটিয়া ঘাট এলাকায় মোড়ল গজারিয়া নদীর ওপর পুটিয়া সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ওই সময় মানুষের পারাপারের সুবিধার্থে নদীর ওপর একটি অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হলেও বাঁধটি অপসারণ করা হয়নি।
বাঁধটি ১০০ মিটার লম্বা ও ৫ ফুট চওড়া। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জজ মিয়া নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশের কারণে বাঁধটি কাটা হয়নি।
সূত্র জানায়, তার পর থেকে জজ মিয়া বাঁধটি মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করে আসছেন। এলাকার লোকজন বলেন, ওই ব্যক্তি প্রতিবছরই সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ওই বাঁধ মেরামত করেন ও মাছ ধরেন।
কালীকচ্ছ মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, এভাবে নদ-নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরলে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। মৎস্যজীবী আনন্দ দাস বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ নিধন করে দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংস করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আবদুল আমিন, জাহাঙ্গীর মৃধা ও দানা মিয়া বলেন, বাঁধের কারণে পানির প্রবাহ কমছে। এতে কৃষিকাজে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, বাঁধের কারণে নদীতে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানির অভাবে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাঁরা বলেন, অনেকে বাধ্য হয়ে পানির পাম্প বসিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। কৃষকেরা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বাঁধ অপসারণ ও নদী খননের দাবি জানিয়েছেন।
কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তকদির হোসেন বলেন, একজনের জন্য হাজার হাজার মানুষের সর্বনাশ হতে পারে না।
এ ব্যাপারে জজ মিয়া মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই বাঁধ দিইনি। বাঁধ দিয়েছে সরকার।’ তাঁর দাবি, সরকারি নিয়মনীতি মেনেই তিনি মাছ ধরছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াত মুহম্মদ সাহে দুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এখন বাঁধটি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

No comments

Powered by Blogger.