আবারও পেলে-মেসি সেরা কিন্তু সর্বকালের নয়

বার আদেখলেপনা দেখে পেলে রীতিমতো অবাক। একটু যেন বিরক্তও। টানা তিনবার ফিফা বর্ষসেরা হওয়ার পর লিওনেল মেসিকে পারলে কেউ কেউ সর্বকালের সেরাও বানিয়ে দেয়, যে মুকুটটি আসলে তাঁরই মাথায়। পেলের তাই এসব মোটেও ভালো লাগছে না। ফিফা ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠানে নিজে দুই হাত বাড়িয়ে মেসিকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। ব্রাজিল কিংবদন্তি এখন আবার আর্জেন্টাইন তারকাকে সরিয়ে দিলেন দূরে।


ফরাসি দৈনিক লে মন্ডেকে দেওয়া সাক্ষার‌্যাকারে পেলে বলেছেন, ‘মেসি আগে আমার মতো এক হাজার ২৮৩টি গোল করুক। তিনটা বিশ্বকাপ জিতুক। তারপর আমরা এসব নিয়ে কথা বলব।’ তাঁর মতো ‘গ্রেট’ আর কখনোই জন্মাবে না, এ কথা পেলে জোর দিয়েই বলেন সব সময়। মাঝেমধ্যে করেন তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি। করলেন আবারও, ‘লোকে সব সময় আমাকে জিজ্ঞেস করে নতুন পেলে কবে জন্মাবে? আমি বলি, আর কখনোই নয়। কেননা, আমার বাবা আর মা কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন।’
তার মানে এমন নয়, মেসিকে তিনি পাত্তা দিচ্ছেন না। বরং দিচ্ছেন এই প্রত্যয়নপত্রও, ‘টেকনিকের দিক দিয়ে আসলে আমরা সমান পর্যায়েরই।’ এর চেয়ে বড় প্রশংসা মেসির জন্য আর কী হতে পারে! পেলে এ-ও বলছেন, ‘আমি মেসিকে অনেক পছন্দ করি। ও আসলে একজন গ্রেট খেলোয়াড়।’ কিন্তু পাদটীকার মতো যোগ করে দিলেন, ‘ও বার্সেলোনার গ্রেট খেলোয়াড়, আর্জেন্টিনার নয়। আর্জেন্টিনার হয়ে সমান সাফল্য ও পায়নি।’
মূলত বাঁ পায়ের খেলোয়াড় মেসির মধ্যে টেকনিকের কিছু সমস্যাও দেখেন। আর টেকনিকের দিক দিয়ে নিজে যে শতভাগ নির্ভুল ছিলেন, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন পেলে, ‘কেউ অনুমান করতেই পারত না, আমি কোন পায়ে শট নেব। আমি দুই পায়েই সমান দক্ষ ছিলাম। হেড থেকেও আমি অজস্র গোল করেছি।’
তবে সর্বকালের সেরা কে, এ নিয়ে যে বিতর্ক হবেই, সেটাও মানছেন পেলে, ‘কেউ বলবে বিটোফেন ভালো পিয়ানো বাজাতে পারত না, কেউ বলবে মাইকেল অ্যাঞ্জেলো আঁকতে পারত না, কেউ বলবে পেলে ফুটবল খেলতে পারত না।’ এএফপি, ওয়েবসাইট।
মেসিকে নিয়ে এর আগেও পেলে বেশ কিছু তীর্যক মন্তব্য করেছেন। একবার এমনও বলেছিলেন, ‘আমি আসলে কেমন খেলোয়াড় ছিলাম, সেটা বোঝাতে মেসিকে আমার ডিভিডি পাঠিয়ে দেব।’ অতি বিনয়ী-ভদ্র বলে পরিচিত মেসিও একসময় পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছিলেন, ‘কই, এখনো তো তিনি ডিভিডিটা পাঠালেন না!’

No comments

Powered by Blogger.