মোহামেডানের ‘দুই জয়’
হাম্মাদ আজমকে কাঁধে তুলে একটু বেশিই উল্লাস করল মোহামেডানের সমর্থক-কর্মকর্তারা। মাঠের এই উৎসবমুখর পরিবেশেই সাদা-কালো শিবিরের কেউ কেউ চোখ তুলে তাকাচ্ছিলেন ভিক্টোরিয়ার ড্রেসিংরুম-সংলগ্ন হসপিটালিটি বক্সের দিকে। সেখানে শোকস্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন মোহামেডান ছেড়ে যাওয়া ভিক্টোরিয়ার গভর্নিং বডির নতুন প্রধান লুৎফর রহমান। বিকেএসপির ম্যাচে সূর্যতরুণকে ৪ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী।
মিরপুরে কলাবাগানের বিপক্ষে হারতে হারতে শেষে ২ উইকেটে জিতেছে গাজী ট্যাংক। এই দুই ম্যাচেই উত্তেজনা থাকলেও প্রিমিয়ার লিগে কাল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফতুল্লা স্টেডিয়ামের মোহামেডান-ভিক্টোরিয়া ম্যাচটি। তাতে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয়কে মোহামেডান শুধু মাঠের জয় হিসেবেই দেখছে না, দেখছে মাঠের বাইরেও এক জয়।
ফতুল্লা স্টেডিয়ামের ব্যাটিং স্বর্গেও ভিক্টোরিয়া করতে পারল ১৯৪ রান। প্রতিপক্ষকে এমন মামুলি লক্ষ্য দেওয়ার পর বোলারদের আলো ছড়াতে হয়। কিন্তু ভিক্টোরিয়া অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও তা পারেননি। বরং মোহামেডানের পাকিস্তানি অলরাউন্ডার হাম্মাদ আজমের ব্যাটের সামনে অন্য বোলারদের মতো তিনিও ছিলেন অসহায়।
দলের ৯২ রানের মাথায় তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ইমরুল কায়েস আউট হওয়ার পর নেমেছিলেন হাম্মাদ, ফিরেছেন দলকে জিতিয়ে। মাত্র ৫০ বলে করেছেন অপরাজিত ৮৩ রান। আট বাউন্ডারির সঙ্গে পাঁচ ছক্কা। মিড উইকেট আর স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে দুটি ছক্কাই সাকিবের বলে। তবে ইনিংসের ৩৭তম ওভারে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ছক্কাটি খেয়েছেন পেসার আল আমিন। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে উড়ে বিশাল সেই ছক্কা পেরিয়ে গেছে গ্যালারিও। দুটি বাউন্ডারিসহ আল আমিনের ওই এক ওভারেই হাম্মাদ নিয়েছেন ১৬ রান। হাম্মাদের ব্যাটে ছক্কা দেখেছেন তাঁর দুই স্বদেশি শোয়েব মালিক আর আহমেদ শেহজাদও। শেহজাদের বলে লং অন দিয়ে ছক্কা মারার পরের বলেই স্কয়ার লেগ দিয়ে চার—মোহামেডানের জন্য ওটাই ছিল উইনিং শট।
হাম্মাদের ঝোড়ো ইনিংসের আড়ালে পড়ে গেলেও মোহামেডানের জয়ে অধিনায়ক নাঈম ইসলাম আর ওপেনার ইমরুল কায়েসের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। সূর্যতরুণের বিপক্ষে লিগের এর আগের ম্যাচে করেছিলেন অপরাজিত ৯১। এরপর ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৫৩। কাল টানা তৃতীয় ফিফটিটি করার পর ছন্দে ফেরার দাবিটা আরও জোরালোভাবেই জানাতে পারেন ইমরুল। ফিফটি করেছেন মোহামেডানের অধিনায়ক নাঈমও। ইমরুলের আউটের পর হাম্মাদের সঙ্গে ১০৬ রানের চতুর্থ উইকেট জুটির অংশীদার তিনি।
ইমরুল, নাঈমের মতো জাতীয় দলের আরেক ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলামও কাল ফিফটি পেয়েছেন। ৪০ রানে দুই ওপেনারই বিদায় নেওয়ার পর পাকিস্তানি কামরান সাজিদের সঙ্গে ৭২ রানের জুটি হয়েছে তাঁর। তবে নূর হোসেনকে স্কুপ করতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে জহুরুলের বিদায়ের পর মাত্র ৮২ রানেই পড়েছে ভিক্টোরিয়ার শেষ ৮ উইকেট। বাকিদের মধ্যে সাকিব আর কামরান করেছেন ৩৬ রান করে। এক ম্যাচ বহিষ্কৃত থাকার পর মাঠে ফেরা তামিম মাত্র ৬ রান করেই বোল্ড হয়ে গেছেন সৈয়দ রাসেলের বলে। ব্যাটিংয়ের মতো মোহামেডানের বোলিংয়েও সফল এক পাকিস্তানি। বাঁহাতি স্পিনে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন ইয়াসিম মুর্তজা। নূর হোসেন ও হাম্মাদের উইকেট দুটি করে।
বিকেএসপিতে গাজী সালাউদ্দিনের ৭১ আর রাজা আলীর ৭৬ রানের সৌজন্যে ৭ উইকেটে ২৪০ রান করেছিল সূর্যতরুণ। আবাহনী সেই রান টপকেছে ৪ বল বাকি থাকতে। তবে এই জেতা ম্যাচেও সেঞ্চুরি না পাওয়ার হতাশা নিয়ে ফিরেছেন মার্শাল আইয়ুব। ৩ ছক্কা ও ৬ বাউন্ডারিতে ১০৫ বলে ৯১ রান করে বোল্ড হয়ে গেছেন তিনি ইমরান উল্লাহর বলে।
মিরপুরে ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আলাউদ্দিন বাবুই ধসিয়ে দিয়েছেন কলাবাগানের ইনিংস। ৩৮.২ ওভারে ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। জবাবে ৭৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে গাজী ট্যাংকও। তার পরও শেষ রক্ষা হয়েছে ৮ নম্বর ব্যাটসম্যান নাজমুল মিলনের অপরাজিত ৩৯ রানে। অষ্টম উইকেটে আলাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে তাঁর ৩২ ও নবম উইকেটে মোহাম্মদ সামির সঙ্গে অপরাজিত ২৬ রানের জুটিতে পার পেয়ে যায় গাজী ট্যাংক।
সং ক্ষি প্ত স্কো র
মোহামেডান-ভিক্টোরিয়া
ভিক্টোরিয়া: ৪২.৫ ওভারে ১৯৪ (জহুরুল ৫৩, সাজিদ ৩৬, সাকিব ৩৬; ইয়াসিম ৪/২৮, হাম্মাদ ২/২০, নূর ২/৪৮)। মোহামেডান: ৪২.২ ওভারে ১৯৮/৩ (হাম্মাদ ৮৩*, নাঈম ৫০*, ইমরুল ৫০; আল আমিন ২/৪৯)। ফল: মোহামেডান ৭ উইকেটে জয়ী।
আবাহনী-সূর্যতরুণ
সূর্যতরুণ: ৫০ ওভারে ২৪০/৭ (রাজা আলী ৭৬, গাজী সালাউদ্দিন ৭১, জুপিটার ৩৭, তায়েবুর ২৩; ফরহাদ রেজা ৩/৩৭)। আবাহনী: ৪৯.২ ওভারে ২৪২/৫ (মার্শাল ৯১, ট্রেগো ৪৪, পুনিত সিং ৩৫, আনামুল ২৯, রজত ২৯*; তায়েবুর ২/৪৫)। ফল: আবাহনী ৫ উইকেটে জয়ী।
গাজী ট্যাংক-কলাবাগান
কলাবাগান: ৩৮.২ ওভারে ১৩২ (রিফাতউল্লাহ ৪৩, নাসিরউদ্দিন ৩১; আলাউদ্দিন ৫/২৭, নাইয়ার ২/২৫, নাসির ২/২৭)। গাজী ট্যাংক: ৩৫.৫ ওভারে ১৩৩/৮ (নাজমুল মিলন ৩৯*, মমিনুল ২৪; রকিবুল ২/২৩, সোহাগ ২/৩৪, শাহাদাত ২/৫৪)। ফল: গাজী ট্যাংক ২ উইকেটে জয়ী।
No comments