অবৈধ বালুবাহী নৌকা আটকাল গ্রামবাসী, ছেড়ে দিল পুলিশ

দ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সাহাপুর গ্রামের একের পর এক ঘরবাড়ি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও বন্ধ হচ্ছিল না বালু উত্তোলন। বাধ্য হয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গতকাল বুধবার অবৈধ বালুসহ ১৫টি নৌকা আটক করে। এ নিয়ে বালুশ্রমিক ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষও হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দানকারী এক ব্যক্তির অনুরোধে নৌকাগুলো ছেড়ে দেয় তারা।


জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রাজশাহী জেলাধীন কোনো নদী বা বালুমহাল থেকে বালু বা মাটি উত্তোলনের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়া হয়নি। তবু বালু ও মাটি উত্তোলন অব্যাহত থাকায় গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বালু উত্তোলনকারীদের উদ্দেশে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন। এর অনুলিপি রাজশাহীর পুলিশ সুপার, র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলকে দেওয়া হয়েছে।
পদ্মাতীরবর্তী সাহাপুর গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, কয়েক মাস ধরে পদ্মা খনন করে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এতে গত কয়েক দিনে নতুন করে আরও সাতটি বাড়ি নদীতে ভেঙে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘর ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি ক্যাম্প।
সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারী নুরুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনে তাঁদের এলাকার লোকজন একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। কারও কারও বাড়ি তিন-চারবার পর্যন্ত স্থানান্তর করতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে গ্রামের লোকজন গতকাল বালুর নৌকাগুলো আটক করে। এ সময় বালুশ্রমিকদের সঙ্গে গ্রামবাসীর এক দফা সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধি চারঘাট ভূমি অফিসের কানুনগো নুরতাজ আলী ঘটনাস্থলে যান। সাহাপুর এলাকাটি রাজশাহী নগরের মতিহার থানার অন্তর্গত হওয়ায় ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলামও সেখানে যান।
গতকাল দুপুরে সাহাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশকে ঘিরে রয়েছে কয়েক শ মানুষ। পুলিশ ও স্থানীয় ইউসুফপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম গ্রামবাসীকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। এ সময় সেখানে ড্রেজারের মালিক নাজমুল শেখ ও ফারুককে পাওয়া যায়। তাঁরা দুজন দাবি করেন, মতিহার থানা এলাকার সাহাঙ্গীর নামের এক লোক তাঁদের ড্রেজার ভাড়া নিয়ে বালু তুলছেন।
এ সময় এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে আবদুস সাত্তার নামের এক ব্যক্তি এসে বলেন, রাজশাহী এলাকায় নদী থেকে বালু তুলতে তাঁরা ইজারা নিয়েছেন। ভুল করে তাঁদের শ্রমিক এখানে চলে এসেছেন।
সাত্তারের অনুরোধে পুলিশ ড্রেজারের মালিক ও শ্রমিকদের ছেড়ে দেন। তাঁরা নৌকা নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এ ব্যাপারে সাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরে যোগাযোগ করলে এসআই শরীফুল ইসলাম বলেন, বালু তোলার জন্য ব্যবসায়ীদের ইজারা নেওয়া অংশের সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁরা সেই অংশে বালু তুলবেন।
রাজশাহী জেলায় কাউকে বালু তোলার ইজারা দেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করলে শরিফুল বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
যোগাযোগ করলে চারঘাটের ইউএনও আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, কানুনগো সরেজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম নিয়ে এসেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.