ডিজিটাল সংসদ-আরও একধাপ অগ্রগতি, কিন্তু...

জাতীয় সংসদের প্রত্যেক সদস্যকে ই-মেইল অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া এবং নোটিশ ও অন্যান্য দাফতরিক চিঠি সে ঠিকানায় পাঠানোর উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে নিঃসন্দেহে একধাপ অগ্রগতি। আগামী মাস থেকে এর পাশাপাশি সেলফোনের সংক্ষিপ্ত বার্তার (এসএমএস) ব্যবহারের এবং সংসদ কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগকেও আমরা স্বাগত জানাই।


ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণকারী সরকারের কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদ ই-ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে, এমনটিই প্রত্যাশিত। খোদ সংসদ সদস্যগণ ও তাদের নির্বাচকমণ্ডলীর মধ্যেও যোগাযোগ আরও নিবিড় ও গতিময় হবে আশা করা যায়। কেবল সংসদ কার্যক্রম কেন, সংসদ সদস্যরা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সব কাজেই ইন্টারনেটবান্ধব হোন। ই-পার্লামেন্ট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরা এ জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন, এটাই আশা করি। একই সঙ্গে সাংসদরাও 'কাগুজে' নোটিশ প্রদানের বদলে ই-মেইল ব্যবহার করতে পারেন। এটি উৎসাহব্যঞ্জক যে, সীমিত পরিসরে হলেও সংসদ টেলিভিশন চালু হয়েছে। সংসদের কার্যক্রম যদি একটি ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়, তাহলে নাগরিকের নজরদারি আরও বাড়বে। সংসদ কর্তৃপক্ষের বর্তমান উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সরকারের সদিচ্ছাই প্রমাণিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি। প্রতিফলিত হয়েছে জনপ্রত্যাশাও। বর্তমান সরকারের তিন বছরপূর্তি উপলক্ষে সমকাল পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা মনে করেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অগ্রগতি হয়েছে। বস্তুত অন্য ক্ষেত্রে সাফল্য-ব্যর্থতা যাই থাকুক, এক্ষেত্রে গত তিন বছরে সরকার সন্তোষজনক ভূমিকা পালন করে আসছে। ইতিমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সব নিয়োগ কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব থানায় অনলাইন জিডি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে 'লজ অব বাংলাদেশ অ্যান্ড বাংলাদেশ কোড' ওয়েবসাইট চালু হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রের ডিজিটালাইজেশন আরও উৎসাহব্যঞ্জক। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পর অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও উদ্যোগী হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবই অনলাইনে সুলভ করার বিষয়টিও কিন্তু কম বৈপ্লবিক ছিল না। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অনলাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন প্রয়োজন দুর্নীতির পথগুলোও ডিজিটাল উপায়ে বন্ধ করা। সেক্ষেত্রেও সরকারের মনোযোগ ও সাফল্য প্রত্যাশা করি আমরা। আর সংসদ কার্যক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এর প্রভাব অন্যান্য ক্ষেত্রেও অবশ্যম্ভাবী। তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, এই ডিজিটালাইজেশন তখনই অর্থপূর্ণ হবে যখন আমাদের নাগরিকরা এর সুফল পাবেন। সেক্ষেত্রে সংসদকে কার্যকর করে তোলার বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা দেখছি, বিরোধী দল সংসদে যাওয়ার প্রশ্নে যথেষ্ট আন্তরিক নয়। সরকারও এ ব্যাপারে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সমকাল পরিচালিত জরিপে যে উত্তরদাতারা উভয়পক্ষকে আরও সংসদমুখী দেখতে চেয়েছে, তাও এ প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আমরা। ডিজিটালাইজড অথচ কর্মহীন সংসদ প্রহসন ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।

No comments

Powered by Blogger.