নবীগঞ্জে বেহাল স্বাস্থ্যসেবা-চিকিৎসক থাকুক, মিলুক ওষুধ
নবীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোর স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বুধবার সমকালের লোকালয় পাতায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক রিপোর্টে দেখা যায়, উপজেলার ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকে এবং যেগুলো নিয়ম করে খোলা হয় সেগুলোতেও চিকিৎসক ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেক সময় দেখা মেলে না। ফলে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দেওয়ার সরকারের গৃহীত কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এতে উপজেলার দুই লাখ মানুষের অনেকেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যাদের অর্থ আছে তারাই কেবল ডাক্তারদের মোটা অঙ্কের ফি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারে। গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবার মতো অতি প্রয়োজনীয় বিষয় অধরাই থেকে যাচ্ছে। এর ফলে গরিব মানুষের গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তার, কবিরাজ, ওষুধের দোকানের কম্পাউন্ডার ও ঝাড়ফুঁকের ওপরই শেষ পর্যন্ত রোগ নিরাময়ের জন্য নির্ভর করতে হয়। এতে গ্রামের মহিলা ও শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া ক্লিনিকগুলোতে প্রতি তিন মাস অন্তর যে ১৩ হাজার টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয় তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে যেসব কেন্দ্র খোলা থাকে সেসব কেন্দ্র থেকেও গরিব রোগীরা পর্যাপ্ত ওষুধ-সমর্থন পায় না। এসব রোগী গরিব বিধায় তাদের অনেকের পক্ষেই বেশি দামের ওষুধ ক্রয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। দেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যেন নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন সে জন্য মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যেই পর্যবেক্ষণে যান। দায়িত্বে অবহেলা ও অসাধুতার জন্য চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমালোচনা, এমনকি শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা এখনও সমন্বিত ও কার্যকর রূপ পাচ্ছে না। এ জন্য চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপ পিরিয়ডের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসাসেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যাতে তৃণমূল পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে উৎসাহী হন সে জন্য তাদের বিশেষ আর্থিকসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে প্রণোদনামূলক ব্যবস্থার সংযুক্তি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে সক্ষম হতে পারে। নবীগঞ্জসহ সারাদেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলো যাতে তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পেঁৗছে দিতে সক্ষম হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করা উচিত।
No comments