কোলাভেরি ডি-৫৫ দিনে ২৫ কোটি শ্রোতা

‘ইউ বয়েজ, আই অ্যাম সিঙ্গিং সং স্যুপ সং ফ্লপ সং হোয়াই দিস কোলাভেরি কোলাভেরি কোলাভেরি ডি... রিদ্ম কারেক্ট
হোয়াই দিস কোলাভেরি কোলাভেরি ডি মেনটেইন প্লিজ হোয়াই দিস কোলাভেরি...আ ডি।’ কী আছে গানটিতে? এসব কথার মানে কী? আর সুর? সে-ও তো তেমন আহামরি কিছু নয়। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৫৫ দিনে গানটি শুনেছেন দেশে-বিদেশে প্রায় ২৫ কোটি শ্রোতা! শুধু ইউটিউবেই শুনেছেন প্রায় ছয় কোটি!‘কোলাভেরি ডি’ গানটি তৈরি হয়েছে ভারতের তামিল ভাষার ছবি থ্রির জন্য।
তামিল ও ইংরেজি ভাষায় গানটি গেয়েছেন ভারতের দক্ষিণের নায়ক ধানুষ। পুরো নাম ভেনকাটেশ প্রভু কস্তুরি রাজা। বয়স ২৮। বাবা কস্তুরি রাজা তামিল ছবির পরিচালক। অভিনয়ের পাশাপাশি ধানুষ গান লেখেন, শখের বশে মাঝেমধ্যে তাতে কণ্ঠও দেন। এরই মধ্যে আড়ুকালাম ছবিতে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
ধানুষ দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেতা রজনীকান্তের মেয়ের জামাই। তাঁর স্ত্রী ঐশ্বরিয়া রজনীকান্ত দক্ষিণের শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী, প্লেব্যাক শিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক। থ্রি ছবিটি তিনিই পরিচালনা করছেন। আর তাতে অভিনয় করছেন ধানুষ।
ধানুষের মতে, ‘কোলাভেরি ডি’ গানটি টাংলিশ ভাষায়। মানে তামিল ও ইংরেজি ভাষা একসঙ্গে জুড়ে তৈরি হয়েছে। লিখেছেন ধানুষ নিজেই। আর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন অনিরুধ রবিচন্দর। গানটির সুরে রয়েছে দক্ষিণের লোকগানের ছোঁয়া। বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে রয়েছে নাড়াসোয়ারাম, সানাই, স্যাক্সোফোন, উড়ুমি, থেভিল, ড্রামস, অ্যাকুয়িস্টিক গিটার ও কিবোর্ড। আর গানটি রেকর্ড করা হয়েছে চেন্নাইয়ে এ আর রহমানের এ এম স্টুডিওতে।
ধানুষের মতে, ‘কোলাভেরি ডি’ একজন ব্যর্থ প্রেমিকের গান।
ভারতীয় একটি সিনে ম্যাগাজিনে ‘কোলাভেরি ডি’ গানটির ভাবানুবাদ করা হয়েছে এভাবে, ‘ছেলেরা, আমি গান গাইছি। এটা স্যুপ সং, ভালোবাসার মসৃণ আদর থেকে আছাড় খাওয়ার এই গান গাইছি। আমার গান ফ্লপ সং।...’
গানটির ধারণকাজ শেষ হওয়ার পর কীভাবে যেন তা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়ে। বাধ্য হয়েই গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ দেওয়া হয় গত বছরের ১৬ নভেম্বর।
ইউটিউবে দেওয়ার পর রাতারাতি গানটির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে ভারতসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায়। এরপর সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধানুষ বলেন, ‘আমি শুধু আমার খারাপ কণ্ঠ দিয়ে একটি অতিসাধারণ কথার গান গেয়েছি—ওই সময় এটাই জানতাম। এর বেশি কিছু নয়। তখন মোটেও ভাবতে পারিনি, গানটি রাতারাতি এতটা জনপ্রিয়তা পাবে। তবে আমি এই সাফল্যের কথা ভুলে যেতে চাচ্ছি। কারণ, তাতে আমার কাজ করতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে।’
ধানুষের স্ত্রী ঐশ্বরিয়া কিন্তু কখনোই স্বামীর গান তেমন পছন্দ করেননি। কারণ, তাঁর মতে, ‘ধানুষ গান গাইলে মনে হয়, ও শুধু চিৎকার করছে।’
জনপ্রিয়তার কারণে গানটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে সমান তালে। অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন তাঁর টুইটারে লেখেন, ‘গানটা শুনেছি। গানটি দারুণ আলোড়ন ফেলেছে। অনেক হইচই হচ্ছে। কিন্তু গানটার একটা নিজস্বতা আছে। আমি ধানুষ আর রজনীকান্তের মেয়ে ঐশ্বরিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছি। নতুন কিছু হলে সমালোচনা তো হবেই। গানটিতে খুব সহজ ভাষায় মনের ভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তেমন কোনো অলংকার নেই, স্বাভাবিক ভাবনাগুলো সরাসরি বলেছে ধানুষ।’
অমিতাভ তাঁর বাসায় ধানুষ আর ঐশ্বরিয়াকে চায়ের দাওয়াত দেন।
আর বিশিষ্ট গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার বলেছেন, ‘এটা কোনো গান? আমি এটাকে কোনো গান মনে করি না। আমি এখানে কোনো নম্বর দিতে পারছি না। মাতামাতি হচ্ছে বলে কোনো জিনিস খুব ভালো হতে পারে—তার কোনো মানে নেই।’
আর গানটা শোনার পর খুব হেসেছেন রজনীকান্ত। গানটির মিউজিক ভিডিওতে থাকার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
শুধু বড়দের মধ্যেই নয়, গানটি প্রভাব ফেলেছে ছোটদের ওপরও। ছোটদের জন্য এসেছে ‘কোলাভেরি ডি’ গানটির ‘কিডস ভার্সন’। আর তাতে কণ্ঠ দিয়েছে সনু নিগমের চার বছর বয়সী ছেলে নিভান। এখানে স্কচের গল্প নয়, ছিল গ্লাসভর্তি দুধ। নিভান তার মায়ের কাছে এই গানের মধ্য দিয়ে দুধ চেয়েছে।
পরিচালক ঐশ্বরিয়া বলছেন, ‘এ বছরই মুক্তি পাবে থ্রি। আমরা ভালোভাবে কাজটা শেষ করতে চাচ্ছি।’
এদিকে ধানুষের কাছে বড় আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘কোলাভেরি ডি’ গানটির হিন্দি ভাষ্য। এ গানের কল্যাণে যে ‘ছাপ্পর ফাড়কে’ কাণ্ডের মতো কাঁড়ি কাঁড়ি রুপি আয় হয়েছে, তা কিন্তু পড়েনি গানের নেপথ্য নায়ক ধানুষের ঝোলায়। সনি মিউজিকের কাছে গানটির স্বত্ব বিক্রি করে দেওয়ায় বড় ধরনের দাঁও মারার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে ধানুষের। ওদিকে গানটি পয়মন্ত হয়ে ভরিয়ে তুলেছে সনির লক্ষ্মীর ভান্ড। এত বড় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ধানুষ আর তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের এখন আফসোসের শেষ নেই।
 মেহেদী মাসুদ
ওয়েবসাইট অবলম্বনে

No comments

Powered by Blogger.